ঠান্ডায় হাঁটুর ব্যথা নিরাময়ে কার্যকরী পদ্ধতি

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:০৩ | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:০১

প্রকৃতিতে এখন শীতকাল চলছে। শীতে বহু মানুষেরই অস্থিসন্ধির ব্যথা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঠান্ডা বাড়তেই হাঁটুর ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন অনেকে। কারও কারও মতে, শীতে আমাদের শরীরের কোষ ও টিস্যু স্নায়ুর উপর বেশি চাপ দেয়। ফলে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়। যাঁদের হাঁটুতে আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা আছে, তাঁদের যন্ত্রণা আরও বেশি। অনেক সময়ে দেখা যায়, ঠান্ডায় অনেকেই দীর্ঘ সময়ে এক পাশে শুয়ে থাকেন এতে সে দিকের হাড় ও অস্থিসন্ধিতে চাপ পড়ে। ফলে ব্যথা হয়। তা ছাড়া বেশি শীতে দেহের সবচেয়ে জরুরি অঙ্গগুলোকে গরম রাখতে হার্টকে বেশি কাজ করতে হয়। তাতে প্রান্তীয় অঙ্গে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

হাঁটু মানুষের শরীরের পুরো ওজন বহন করে ও আমাদের দাঁড়াতে, হাঁটতে, দৌড়াতে সাহায্য করে। হাঁটু মূলত একটি জটিল অস্থিসন্ধি, যা ফিমার, প্যাটেলা ও টিবিয়া নামক ৩টি হাঁড়ের সমন্বয়ে গঠিত। এছাড়া এ জয়েন্ট অনেক মাংসপেশি ও সন্ধিবন্ধনীর সাহায্যে সংযুক্ত। হাঁটুর জয়েন্টের ভেতরটা সায়নোভিয়াল মেমব্রেন বা ঝিল্লি দিয়ে ঢাকা থাকে। এ সায়নোভিয়াল মেমব্রেন সায়নোভিয়াল ফ্লাইড তৈরি করে, যা হাঁটুর ঘর্ষণজনিত ক্ষয় রোধ করে। হাঁটুর জয়েন্টের চারপাশে থাকে সূক্ষ্ম নার্ভের জালিকা যা হাঁটুতে তৈরি হওয়া ব্যথার অনুভূতি ব্রেইনে পাঠিয়ে দেয় ও আমরা হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করি। শীতকালে হাঁটুর ব্যথা বাড়লে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

নিয়ম করে শরীরচর্চা

প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট শরীরচর্চা করুন। এতে দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। হাঁটুর ব্যথা কমে। বয়সের ভারে যদি ভারী কসরত করতে অসুবিধা হয়, তবে হালকা জগিং কিংবা হাঁটাহাঁটিতেও অনেকটা ভাল থাকে শরীর। কিছু সহজ ব্যায়াম হাঁটুকে শক্তিশালী করে ও ব্যথামুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

একটি নরম তোয়ালে ভাঁজ করে হাঁটুর নিচে রেখে হাঁটু দিয়ে তোয়ালের ওপর চাপ দিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে ১০ বার করে দিনে ২ থেকে ৩ বার করতে হবে।

একটি চেয়ারে বসে পায়ের গোড়ালিতে ১ থেকে ২ কেজি ওজন বেঁধে পা সোজা করে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন ও পরে ভাঁজ করুন। আবার সোজা করুন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ বার করে দিনে ২ থেকে ৩ বার করতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

হাঁটুব্যথার অন্যতম একটি কারণ শরীরের অতিরিক্ত ওজন। শরীরের অত্যধিক ওজন হাঁটুর উপর চাপ ফেলে। তাই হাঁটু ভাল রাখতে এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করতে ওজন কমানো জরুরি।

ব্যথা বাড়লে ফিজিওথেরাপি করতে পারেন

অনেকেই এখন হাঁটুর ব্যথা সারাতে ফিজিওথেরাপির সহায়তা নেন। এই পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। বিভিন্ন ধরনের তেল মালিশ কিংবা চিনা চিকিৎসা পদ্ধতি অ্যাকুপাংচারও করান অনেকে। তবে যে কোনও চিকিৎসা শুরু করার আগে এক বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া আবশ্যিক।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

খাদ্য তালিকায় যেন ভিটামিন সি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে থাকে। সামুদ্রিক মাছ, টুনা মাছ, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড খেতে পারেন। সয়াবিনেও প্রচুর পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তবে হাঁটুর ব্যথা খুব বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

ঘরোয়া টোটকা

ব্যথার স্থানে মধুর ও ভিনিগার মিশিয়ে মাখালে ব্যথা কমতে পারে। পাশাপাশি, নিয়ম করে খেজুর, কালো জিরা, ওলিভ অয়েলের মতো জিনিস খেলেও কমতে পারে ব্যথা। প্রতিদিন ৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান। ব্যথা কমাতে খুব ভাল কাজ করে আদার রস। আদা কুচি চিবিয়ে খান, আদা থেঁতো দিয়ে জল ফুটিয়ে খেলে আদা চা খেলেও উপকার মিলতে পারে।

তিন থেকে চার টুকরা বরফ তোয়ালেতে জড়িয়ে হাঁটুর ঠিক যে জায়গায় ব্যথা হচ্ছে, সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। এতে অনেকসময় ব্যথা কমে যায়।

৩ থেকে ৪ চামচ অলিভ অয়েল গরম করে ব্যথার জায়গায় আলতো হাতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মালিশ করুন। দিনে দুই থেকে তিনবার এটা করলে ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।

গরম পানির মধ্যে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটু ডুবিয়ে রাখুন। হট ওয়াটার ব্যাগও ব্যবহার করতে পারেন। ব্যথা নিরাময়ে দিনে দুই থেকে তিনবার এটা করতে হবে।

দুই কাপ দুধের সঙ্গে এক টেবিল চামচ বাদাম, আখরোটের গুঁড়া ও সামান্য হলুদের গুঁড়া ভালভাবে ফোটাতে হবে, যতক্ষণ না মিশ্রণের পরিমাণ অর্ধেক হচ্ছে। টানা দুইমাস দিনে একবার এই দুধ খেয়ে যেতে হবে। ব্যথায় আরাম পাবেন।

যাদের হাঁটু ব্যথা আছে, তারা খুব কঠিন ব্যায়াম করবেন না। বরং হালকা ব্যায়াম করুন, নিয়মিত করুন, ভালো ফল পাবেন।

(ঢাকাটাইমস/২৮ নভেম্বর/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :