‘৬ লাখ’ মুসল্লির অংশগ্রহণে গোর-এ শহীদ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
 | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০২৩, ১৩:০৮

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ৬ লাখের বেশি মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন মাঠ কমিটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

শনিবার সকাল ৯টায় এই ঈদগাহ মাঠে মাওলানা শামসুল আলম কাসেমীর ইমামতিতে ঈদের নামাজ হয়। মুসল্লির সংখ্যা বিবেচনায় এটি দক্ষিণ এশিয়া অঞলের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত।

আগে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের জন্য পরিচিতি পেলেও গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে এখন দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সাল থেকে একসঙ্গে কয়েক লাখ মানুষ একসঙ্গে এই ঐতিহাসিক ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। ২২ একরের বিশাল এই ঈদগাহ মাঠে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।

গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়েছেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এছাড়াও গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাতে দূরদূরান্ত থেকে অংশ লাখ লাখ মুসল্লি। ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সব ভেদাভেদ ভুলে এ ঈদের জামাত পরিণত হয় মুসল্লিদের মিলনমেলায়।

এছাড়া রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর, নীলফামারী, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লির এসেছিলেন এই জামাতে অংশ নিতে।

কুষ্টিয়া থেকে অংশ নেয়া মুসল্লি মোসলেম উদ্দিন জানান, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি ইচ্ছে এবার পূরণ হলো। এই ঈদের জামাতে এত মুসল্লির সঙ্গে একই কাতারে নামাজ আদায় করতে পেরেছি। আল্লাহ যেন আগামীতেও তওফিক দেয় এখানে নামাজ আদায়ের।’

রাজধানী ঢাকা থেকে আসা সত্তুর বছর বয়সের কাছাকাছি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এত বড় ঈদ জামাতে নামাজ আদায় এই প্রথম। জানি না, আর কখনো এই সুযোগ হবে কি না! এই বৃহৎ ঈদগাহে নামাজ আদায়ের জন্য সম্পর্কিত এক ভাতিজির বাড়িতে এসেছিলাম। আজ ঢাকায় চলে যাবো।’

ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঈদগাহ মাঠজুড়ে ছিলো চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। সকাল ৭টা থেকে মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ শুরু করেন।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার জানান, ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিলো মাঠে। ১৯টি প্রবেশ পথে মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মাঠে ছিলো ৫টি ওয়াচ টাওয়ার। ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। মাইক বসানো ছিলো ১১০টি।’

জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং পুলিশ প্রশাসনের নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজকের এই বৃহৎ ঈদ জামাত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি জেলাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। তারা সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ে সহযোগিতা করেছেন।’

ঈদের নামাজের ইমাম আলহাজ মাওলানা শামসুল হক কাসেমি বলেন, ‘ইমামকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মসজিদ এবং মাদ্রাসা থেকে নিয়োজিত ছিলো পাঁচ শতাধিক মুক্কাবির। স্বাস্থ্য ক্যাম্পের ব্যবস্থা রাখা হয়।

‘তৈরি করা হয় ২৫০টি অজুখানা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা। কয়েকদিন প্রচন্ড তাপদাহ গেলেও আল্লাহর রহমতে আজ আবহাওয়া অনুকুলে ছিলো। মুসল্লিরা স্বস্তি পেয়েছেন নামাজ আদায়ে।’

দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে এ ঈদের নামাজে বিশেষ মোনাজাত করেন মাওলানা শামসুল হক কাসেমি।

দেশের বৃহৎ ঈদের এই জামাত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই ঈদগাহ মাঠ তৈরির উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।

ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘দৃষ্টিনন্দন এই ঈদগাহতে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। প্রধান গম্বুজের সামনে রয়েছে মেহরাব, ৪৭ ফুট উচ্চতায় ইমাম দাঁড়ানোর স্থান। এর পাশাপাশি রয়েছে ৫১টি গম্বুজ। এছাড়াও ৫১৬ ফুট দৈর্ঘেও ৩২টি আর্চওয়ে নিমার্ণ করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি।

সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম বলেন, ‘আগামীতে এই ঈদগাহ মাঠে মুসল্লিদের জন্য নামাজ আদায়ের পরিধি আরো বাড়ানো হবে। এজন্য স্টেশন ক্লাবটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নামাজের স্থান আরো বেড়েছে। এছাড়ও এই ঈদগাহ মাঠের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদেশি ডিজাইনার ও প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :