দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে অশান্ত নড়াইলের তারাশি গ্রাম

নড়াইল প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ২২:৩২

দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশি গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত ২ দিনে ৪টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

একের পর এক ভাঙচুর, লুটপাট ও তাণ্ডবে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে দীর্ঘ দিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

সবশেষ সোমবার রাতে তারাশি গ্রামের মুন্সি বাড়ি এবং জলফু মোল্যার দোকান ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এর আগে রবিবার সকালে একই গ্রামের জসিম সিকদার ও অসিম সিকদারের বাড়িঘর ভেঙে তছনছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জন্য এলাকা অশান্ত হয়ে উঠেছে।

তারাশি গ্রামের জসিম সিকদারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানান, প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী ওমর মোল্যা, হুমায়ুন, জাফর, বাচ্চু, শরিফুল, মাসুম, সবুজ, বিল্লাল, সাখাওয়াত, সোহাগসহ আরও অনেকে রবিবার তাদের বাড়িতে হামলা চালালে তার স্বামীসহ বাড়ির সকল পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। ফ্রিজ, আলমিরা, শোকেসসহ অনেক দামি মালামাল কুপিয়ে নষ্ট করে রেখে গেছে।

জসিমের মা পটল বেগম জানান, সন্ত্রাসীরা তার সবকিছুই শেষ করে দিয়েছে। তার তিন ছেলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সন্তানদের বাঁচাতে তিনি প্রশাসনের কাছে আকুতি জানান। ওইসব সন্ত্রাসীরা গত ৪ বছর আগে তার স্বামী গোলাম সিকদারকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার ঘটনায় মুনসুর সিকদার বাদী হয়ে তাদের নামে মামলা করে। মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। ওই মামলা মিমাংসার জন্য তারা এভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শনিবার তারাশি গ্রামের সরোয়ার মোল্যা স্থানীয় মাইজপাড়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কল্যাণখালি এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি কুপিয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে দুর্বৃত্তরা। তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেঁচে থাকলেও সে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। সরোয়ারের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

এদিকে সরোয়ারের পক্ষের লোকজনের দাবি জসিম ও অসিমের নেতৃত্বে সরোয়ারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে জসিমের পরিবারের সদস্যদের দাবি সরোয়ারের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জসিম ও অসিম জড়িত নন।

সচেতন মহলের দাবি সরোয়ারের ওপর হামলা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের সকলকেই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

নড়াইল সদর থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

(ঢাকাটাইমস/৩০ অক্টোবর/ইএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :