পাবনায় প্রশাসনের নীরবতায় চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, পদ্মার গর্ভে বিলীন ফসলি জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা
| আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৩৯ | প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৪

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে পদ্মা নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। এতে নীরব রয়েছে প্রশাসন। ফলে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কৃষকের শত শত বিঘা ফসলি জমি। নিঃস্ব হচ্ছে কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো।

বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধন করলেও উল্টো কৃষকদেরই হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, চরতারাপুরের ভাদুরিয়াডাঙ্গী এলাকায় পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে ১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শতাধিক ট্রলারের মাধ্যমে এসব বালু চলে যাচ্ছে পাবনার পাকশী, সুজানগর, কুষ্টিয়ার পাংশা, কুমারখালী ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে।

অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের পাহারায় চলছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। কেউ প্রতিবাদ করলেই দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।

প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে বালু ব্যবসায়ীরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, পাবনার বহুল আলোচিত ও সমালোচিত এক ঠিকাদারের ছত্রছায়ায় পার্শ্ববর্তী সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহীন ও সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হাসানের নেতৃত্বে বালু উত্তোলনের এই মহোৎসব চলছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই এই এলাকায় ফসলি জমি বলতে কিছু থাকবে না বলে জানান স্থানীয়রা। বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিবাদ করায় বালুখেকোদের মিথ্যা মামলায় অনেক কৃষককে আটকসহ পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও এবং নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চরতারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিনের নেতৃত্বে কিছু প্রভাবশালী বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলেও অভিযুক্ত দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হাসানের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহীন বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠেনা। তার মতে চরতারাপুরে কোনো বালুই উত্তোলন হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিদা আক্তার বলেন, ওই অঞ্চলে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে বর্তমান আন্দোলন-সহিংসতার কারণে জেলা পুলিশের পক্ষে বালু মহালে নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ-পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/০৪ডিসেম্বর/পিএস/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :