যাত্রাবাড়ীতে ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, টাস্কফোর্স গঠন করে চলছে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:৫৫ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:০৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের বিভিন্ন থানা পুলিশ। দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করা যাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাই করতেন তারা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাপ্পারাজ বাপ্পী, মো. পারভেজ, রাশেদ আহাম্মদ, আবু সাদ লিখন, মো হৃদয়, মো. কাউসার, মো. রাব্বি, মো. নাঈম, মো. সাগর, আসিফ আলী উজ্জল, সানজু মিয়া, সুমন মিয়া। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ছয়টি মোবাইল, দুটি চাকু, একটি ব্লেড, জান্ডুবাম মলম ও ৫০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওয়ারীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যাত্রাবাড়ী দিয়ে দেশের ৪০টি জেলায় যাতায়াত করা হয়। ফলে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এই এলাকায় গাড়ি চলাচল করে। রাতের আঁধারে সমানতালে ব্যস্ত থাকায় এই এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ডেমরা থেকে ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে তিনটি ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ারী গেন্ডারিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পাঁচটি থেকে ছয়টিরও বেশি মামলা রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সুমন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি তিন দিন আগে জেল থেকে জামিন পেয়েছেন।

ওয়ারী বিভাগের ডিসি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সবার বয়স ১৫ থেকে ২০-এর মধ্যে। তারা রাতের বেলা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে ওঁৎ পেতে থাকে। রাতের বেলা যখন বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ মানুষ ঢাকায় এসে নামে অথবা ঢাকা থেকে যাওয়ার জন্য রাস্তায় বের হয় তখন তারা এই যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করে।

তিনি বলেন, আমরা বাপ্পা নামের একটি ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বাড়ি কক্সবাজারে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছিনতাইরোধে কাজ করছে টাস্কফোর্স

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, আমরা অপরাধীদের নিয়মিত নজরদারিতে রাখছি। কিন্তু তাদের সংখ্যাটা অনেক বেশি। এছাড়া তারা জামিন পেয়ে এলাকা পরিবর্তন করে ফেলে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় অপরাধ করে গ্রেপ্তার হলে জেল থেকে বের হয়ে মিরপুর এলাকায় চলে যায়। তখন তাকে নজরদারিতে রাখা কষ্ট হয়ে যায়। তবে ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি করার জন্য টিম রয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাই প্রতিরোধে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সটির তদারকি ডিএমপি কমিশনার নিজেই করেন। ফলে ঢাকায় প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগে ইতোমধ্যে তিনজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও তিনজন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আমি নিজেও তাদের সঙ্গে কাজ করছি। প্রতিদিন রাতে ওয়ারী বিভাগের ৩৬টি টিম কাজ করে। ফলে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়। ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছিনতাই মুক্ত করতে যা যা করা দরকার আমরা করব।

বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ইকবাল হোসাইন বলেন, আপনারা জানেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা টিম ও ডিএমপির ডিসিপ্লিন শাখা থেকে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যকে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হয় না। এমন কি পুলিশের প্রধান বারবার বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে দ্বিতীয়বার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। কোনো অপরাধ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তাই এমন কোনো তথ্য থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ওয়ারী বিভাগ থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে কোনো ছাড় নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আপনারা জানেন ঢাকা শহরে যানজট একটি বড় সমস্যা। আমরা এই বিষয়টি মাথায় রেখে যানজট নিরসনে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। ওয়ারী বিভাগের ট্রাফিক ডিভিশনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজের সামনে থেকে হকার, গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা হয়েছে। যাতে স্কুলে যাতায়াত করা সহজ হয়। দ্রুতই ভালো ফলাফল পাবে আশা করি।

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/এসএস/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :