ক্যানসার ও ডায়াবেটিস নিরাময় করে খেজুর! আরও কত কঠিন রোগ সারায় জানুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১১
অ- অ+

পৃথিবীর সবচেয়ে বরকতময় প্রাচীনতম ফল খেজুর। সংস্কৃত খর্জুর থেকে বাংলা খেজুর। যার বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা। তালজাতীয় শাখাবিহীন খেজুর গাছ প্রধানতঃ মরু এলাকায় ভাল জন্মে। পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকা দেশগুলোতে খেজুরের চাষ প্রচলন বেশি। অনেকের মতে ইরাক অথবা মিসর খেজুর ফলের আদি স্থান। প্রাচীনকাল থেকে খেজুর ফলের বাগান সৃষ্টি করা এবং তা থেকে প্রাপ্ত খাদ্য ও ফলের উৎস হিসেবে খেজুর মানুষের জীবন ধারণের অন্যতম অবলম্বন ছিল।

আরব দেশগুলোর মরুভূমি এলাকায় যেখানে অন্য কোনো গাছপালা জন্মানো সহজ হয় না সেখানে খেজুর বাগান সৃষ্টি করে মরুদ্যান সৃষ্টি করা হতো। খেজুর যেসব দেশে বেশি চাষ হয় তার মধ্যে মিসর, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, সুদান, ওমান, লিবিয়া ও তিউনেশিয়া অন্যতম। চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও আমেরিকার কিছু অংশে সফলভাবে খেজুর চাষ করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে খেজুর গাছ “ট্রি অফ লাইফ" বা জীবন বৃক্ষ নামে পরিচিত। খেজুর উৎপাদনে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান তৃতীয়। সমগ্র সৌদি- আরবে ৩৬০ প্রজাতির প্রায় আড়াই কোটি খেজুর গাছ আছে। আকারে ও স্বাদে খেজুর অনেক প্রকারের হয়। উল্লেখযোগ্য হলো—পাঠান-আল মদিনা, মাসকানি, বার্হী, শাহীবি, খালস, আজওয়া, আনবারা, সাগি, সাফাওয়ি, ওয়ান্নাহ, সেফরি, খুদরি বেরহি, সামরান, জাহেদি, মরিয়ম, আনবারাহ, আসমাউলহাসনা, ইয়াবনি ইত্যাদি।

সারাদিন কাজ করার পর তিন-চারটা খেজুর খেলে দেহে শক্তি পাওয়া যায়। সারা পৃথিবীর তাবড় পুষ্টিবিদরা এই খেজুরের গুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সারা বছরই এই বরকতময় ফল খাওয়ার পক্ষে তারা। তাদের কথায়, এই ড্রাই ফ্রুটসে রয়েছে কার্ব, ফাইবার, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন এবং ভিটামিন বি৬ সহ একাধিক জরুরি খনিজ ও ভিটামিনের ভাণ্ডার।

খেজুরের পুষ্টিগুণ, খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয় চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত একটি ফল, যা ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। আছে প্রচুর ভিটামিন বি, যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ভিটামিন এবং ম্যাগনেসিয়ামসহ নানান পুষ্টিগুণ। এসব খাদ্য উপাদান শরীরে অতীব প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে যখন আপনার বয়স পৌঁছাবে ৩০-এর কোঠায়। এ সময় মস্তিষ্কের স্মৃতি ধারণক্ষমতা কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, আমাদের কর্মশক্তি হ্রাস, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পেশির সমস্যা, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, হিমোগ্লোবিনের অসামঞ্জস্যতা, হজমে সমস্যা, ডায়াবেটিস, হাড় ক্ষয়, ত্বকের নানা সমস্যা হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

আর এসব সমস্যারই সমাধানে একটি দামি অস্ত্র হতে পারে খেজুর। আসুন জেনে নিই এই ফলটি আমাদের শরীরে কীভাবে কাজ করে।

নিয়মিত খেজুর খেলে যে শরীর ও স্বাস্থ্যের হাল বদলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য! তবে বেশি উপকার পেতে চাইলে রাতে কয়েকটি খেজুর পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালের নাস্তায় চট করে তা পেটে চালান করে দিতে পারলেই কেল্লাফতে। তাতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে। এড়ানো যাবে একাধিক রোগব্যাধি।

সুতরাং আর অহেতুক সময় নষ্ট না করে পানিতে ভেজানো খেজুরের গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নিন। তাতেই ফিরবে আপনার স্বাস্থ্যের হাল।

ডায়াবেটিসের মহৌষধ

বাংলাদেশে এখন ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস রোগী। মুশকিল হলো, একবার এই অসুখের ফাঁদে পড়লে যে কোনো ধরনের মিষ্টি খাবার খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে ভালো খবর হলো, ডায়াবেটিসে আক্রান্তরাও কিন্তু অনায়াসে খেজুর খেতে পারেন। কারণ খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই কম।

তাই দিনে একটা খেজুর খেলে সুগার বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে খেজুর খান। এতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।

ক্যানসার প্রতিরোধ সিদ্ধহস্ত​

ক্যানসার একটি জটিল অসুখ। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে ও তার পরিবারকে একাধিক ঝক্কি পোহাতে হয়। তাই যেনতেন প্রকারেণ ক্যানসারের ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হবে।

এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে খেজুর। কারণ এই ফলে এমন কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের হাল ফেরানোর কাজে সিদ্ধহস্ত। তাই ক্যানসারের মতো জটিল রোগ প্রতিরোধ করতে আপনি নিয়মিত খেজুর খাওয়া চালিয়ে যান। আশা করি ঠকবেন না।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিপাত যাবে​

আপনার যদি সকাল সকাল পেট পরিষ্কার হতে না চায়, তবে যত দ্রুত সম্ভব পানিতে ভেজানো খেজুর খাওয়া শুরু করুন। কারণ এতে থাকা ফাইবার ও পানির প্রাচুর্য মলকে নরম করার কাজে সিদ্ধহস্ত। তাই নিয়মিত ভেজানো খেজুর খেলে যে কোষ্ঠকাঠিন্যের ফাঁদ অনায়াসে এড়িয়ে যেতে পারবেন, তা বলাই বাহুল্য!

হাড় হবে শক্তপোক্ত​

আজকাল খুব অল্প বয়সেই অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ পিছু নিচ্ছে। তাই সারাজীবন হেঁটে-চলে বেড়ানোর ইচ্ছা থাকলে আপনাকে হাড়ের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতেই হবে। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে ভেজানো খেজুর।

কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস এবং ম্যাগনেশিয়ামসহ একাধিক খনিজ, যা কিনা অস্টিওপোরোসিসের মতো অসুখের ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

​ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়বে​

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়াতে চাইলেও আপনাকে নিয়মিত খেজুর খেতে হবে। এতে রয়েছে এমন কিছু উপকারী ফ্ল্যাভানয়েডস, যা মস্তিষ্কের উপর দারুণ কাজ করে। ফলে বেশি বয়সে অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের মতো অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

যৌন অক্ষমতা এবং সন্তানহীনতার সমস্যা কাটাতে সাহায্য করে খেজুর। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শারীরিক শক্তি ও যৌন শক্তির উদ্দিপনা। আদিকাল থেকেই বিবাহ শাদিতে খোরমা খেজুর বিতারণ করার একটা রেওয়াজ চালু হয়ে আসছিল। এটা মূলত এজন্যই যে, দাম্পতি জীবনের চাহিদা পূরণে খেজুরের ভুমিকা যথাযথ। খেজুরের মধ্যে থাকা বিদ্যমান বিভিন্ন শক্তিশালৗ খনিজ উপাদান আপনার যৌন শক্তিকে বাড়াতে এবং কর্মক্ষণ রাখতে সহায়তা করে।

(ঢাকাটাইমস/২১ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয়: সাইফুল হক
সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু বেড়ে ৯
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে আনসার-ভিডিপি নারী বেসবল দল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা