প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সরকারী কর্মচারীর নামে গায়েবি বিভাগীয় মামলা

বাংলাদেশে থানায় গায়েবি, ভুতুড়ে, অদৃশ্য, লুক্কায়িত, গুপ্ত, অন্তর্হিত, আজগুবি, রহস্যময় বা যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, মামলা রুজু হচ্ছে বলে ফিসফাস চলছে। তথাপি সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের বিভাগীয় মামলার কথা শুনে যেন আমার চোখ কপালে ঠেকল। এমনই এক বাস্তব ঘটনা নিয়ে আজ আমার এই রচনাটি। এক ধরনের অসৎ চক্রের সাহায্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে গায়েবী বিভাগীয় মামলার মহোৎসব বিরাজ করছে।
মামলাবাজি জগতের নতুন এসংস্করণে এগিয়ে রয়েছে মিরপুরে—২ এ অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তর কেন্দ্রিক নতুন করে আবির্ভূত হওয়া একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় দেশব্যাপী নিজেদের আস্থাভাজন অসাধু কর্মচারীদের চাহিদা মত দপ্তরে পোস্টিং প্রদান করতে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মচারীকে সরিয়ে দিতে নব উদ্ভাবিত মামলা জগতের এ সংস্করণটি আবিষ্কার করা হয়েছে বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল। মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়ে অবশেষে বিচারিক আদালতে খালাস প্রাপ্ত ভুক্তভোগী ও রেহাই পাচ্ছে না এসব গায়েবী মামলা হতে।
খালাস প্রাপ্ত একই অভিযোগে একাধিক মিথ্যা বিভাগীয় মামলা—সহ এ ধরনের মরার উপর খাড়ার ঘা এ অনেকে ইতোমধ্যে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এ কুচক্রী মহল বিভিন্ন ফন্দি এটেও তাদের টার্গেটকৃত কর্মচারীকে ঘায়েল করে খায়েশ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে।
নানা ক্ষেত্রে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে চক্রটি নিজেদের আজ্ঞাবাহক তথাকথিত একজনকে আবেদনকারী সাজিয়ে, অলীক কলঙ্ক লেপন করার জন্য আবেদনপত্র অধিদপ্তরটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করে, বর্তমান সময়ে শক্তিশালী চক্রটি কল করে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তাকে প্রলুব্ধ করে বিভাগীয় মামলা রুজু করে নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তা আবেদনপত্র না পড়ে ও সংশ্লিষ্ট শাখা কে কল করে ভুয়া আবেদনের বিবাদীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করছেন। অভিজ্ঞ মহল এ অশুভ কর্মকাণ্ড এখনই বন্ধ করা না হলে দেশব্যাপী সকল অধিদপ্তরে নব—উদ্ভাবিত এ অপকর্ম দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তারা শঙ্কিত।
যদিও,তদন্ত হলো কোনো ঘটনা বা বিষয়ের সত্যতা উদঘাটনের জন্য পদ্ধতিগতভাবে তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে কোনো অপরাধ, সমস্যা, বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর গভীর বিশ্লেষণ করা হয়। অভিযোগ তদন্তের জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসরণ করা হয়, এই অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে যা মূলত একটি বিশেষ্য।
অধিদপ্তরটির তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে কাগজে কলমে আছে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগপত্র ও বিবরণী প্রেরণ এবং অভিযুক্তের জবাব গ্রহণ করা। তদন্ত কর্মকর্তা বা কমিটি সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যা এ অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে কথার কথা হিসেবে বিবেচিত।
এ পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক পরিকল্পিত কর্ম আদর্শ(নমুনা) রূপে প্রদর্শন করছি। যা উপর্যুক্ত সকল অনিয়মের সদৃশ একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহ। এ অকাণ্ড অব্যাহত রাখছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর—র কতক মন্দ ও অকর্তব্যপরায়ণ পদের অধিকারী ব্যক্তি। এ অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ সমগ্র প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার এর অনুসন্ধান কর্মকাণ্ড।
এই প্রসঙ্গটি বিশ্লেষণ করে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকা ৫ মে ২০২৫ "হাতিয়ায় মৃত ও অজ্ঞাত শিক্ষকদের আবেদক সাজিয়ে তদন্ত করানোর অভিযোগ" শীর্ষক ( dailyjanakantha.Com/bangladesh/news/800105 ),প্রতিদিনের সংবাদ ৩০ এপ্রিল ২০২৫ "দুর্নীতির তদন্ত চাপা পড়ল ঘুষ ও আনন্দ ভ্রমণে"( Protidinersangbad.com/todays-newspaper/back-page/509679 ) ও ঢাকা মেইল ২৯ এপ্রিল ২০২৫ "তদন্তে গিয়ে আনন্দ ভ্রমণ, খোদ অভিযুক্তদের দিয়েই সাক্ষ্য গ্রহণ!"(dhakamail.com /country/226588 ) , ০৮ মে ২০২৫ "হাতিয়ায় ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে সরকারি কর্মচারীকে হয়রানির অভিযোগ" ( dhakamail.Com/country/228495 ), ০৯ নভেম্বর ২০২৪ "হাতিয়ায় শিক্ষা অফিস ঘুষ—দুর্নীতি—জালিয়াতির আখড়া" ( dhakamail .Com/country/196013 ), দি বাংলাদেশ টুডে পত্রিকা ৫ মে ২০২৫ "হাতিয়ায় মৃত ও অজ্ঞাত শিক্ষকদের আবেদন সাজিয়ে তদন্ত করানোর অভিযোগ"শিরোনামে (thebangladeshtoday.com/bangla/country /2025/05 /05/ 86064 ) সহ আরো কিছু পত্রিকা নোয়াখালী জেলাধীন হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস (উপ্রাশিঅ.) ও হাতিয়া উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউপিইটিসি.) বেষ্টন করে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার তদন্তকালে নানা গুরুতর নিয়ম—বহির্ভূত অনুসন্ধান সম্পর্কিত অসংখ্য শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদপত্রগুলি নিয়মিতভাবে লেখালেখির অনন্তর অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ অধিকতর তদন্ত করে অনিয়ম সম্পৃক্ত ব্যক্তিগনের প্রতিকূলে কোন বন্দোবস্তই নেয়নি। পক্ষান্তরে মোহাম্মদ ছাকায়েত হোসেন এ সকল অনিয়মের বিপক্ষে অবস্থান করায় এবং তাদেও বিপক্ষে বিভিন্ন সংবাদপত্র সংবাদ প্রকাশ হওয়ায়,অনিয়মগুলো সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য দায়ী হিসেবে সন্দেহ করে ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তারবিরুদ্ধেঅভিযোগ আনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ অশুভ চক্র তাকে ঘায়েল করতে না পেরে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে সৃজনকৃত খুনের চেষ্টা মামলা করা হয়। এ মামলায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করে। অর্থাৎ তাদের ওই অপকৌশলও ভেস্তে যায়।
এ যাত্রায় তারা নতুন নকশা নির্মাণের সূচনা করে,এবংমফিজ উদ্দিন নামক একজন অসাধু শিক্ষক সম্পূর্ণ মতলবী আবেদন দেয় ছাকায়েতের বিরুদ্ধে। কিন্তু আবেদনকারীর পূর্বে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে উক্ত আবেদনপত্রের স্বাক্ষরের কোন ধরনের মিল খুঁজে পাওয়া যায় নাই।মফিজ উদ্দিন—এর বিরুদ্ধে রয়েছে কর্মরত বিদ্যালয়েরছাত্রী ও কিশোরীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ। এবং ইতোমধ্যে তার রাজনৈতিক দলের মিছিলে অংশগ্রহণ করার সুস্পষ্ট ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। তার এসব কেলেঙ্কারি বিষয়ে দৈনিক জনকন্ঠ, দি বাংলাদেশ টুডে ও ঢাকা মেইলে বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ রয়েছে।
সে অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা ৫ মে ২০২৫ তারিখে হাতিয়া ইউপিইটিসি কার্যালয়ে সরে জমিনে তদন্তে এসে দুইজন প্রশিক্ষক সহ মূল সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন নাই, এমনকি আসল ঘটনা উদঘাটনের কোন চেষ্টা না করেই সাজানো মিথ্যা সাক্ষী গ্রহণ করে। মৃত ব্যক্তির অভিযোগ বিভাগীয় মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার কোন বিধান না থাকলেও ২০১৭ সালে মারা যাওয়া আব্দুল ওহাব ও তার আত্মীয়স্বজনকে বাদী এবং সাক্ষী করে তদন্তে লিখিত সাক্ষ্য আদায় করে নেন।তদন্ত অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর: ৩য় শ্রেণি বিমা—১০/২৫/২৬১ তারিখ চব্বিশ আষাড় ১৪৩২/০৮ জুলাই ২০২৫ মোতাবেক বেআইনিভাবে একই ঘটনা একই অভিযোগে একই কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা চলাকালীন দ্বিতীয়বার আইন বিরোধী মামলা হয়। এরই আলোকে ছাকায়েতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পায়তারা চলছে। বেআইনিভাবে, যা আদালত ও বিভাগীয় মীমাংসিত বিষয় নিয়ে। একই ঘটনার একই অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করে এ অধিদপ্তর।
বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অধীনস্থ কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুরাগ, বিরাগ বা আবেগের বসবর্তী হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা শপথ ভঙ্গের শামিল। উল্লেখিত কর্মচারীকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অপ্রাসঙ্গিকভাবে অন্য বিভাগে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে বদলি করা হলে, তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করে বদলির আদেশ স্থগিত করার মাধ্যমে তার ন্যায় সঙ্গত অধিকার রক্ষা করেছেন।
অধিদপ্তরটির কর্মকর্তা বিষয়টিকে ইগোতে নিয়ে তাকে হয়রানি করছেন। যাহার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হল, পূর্বে তাকে দেওয়া বিভাগীয় মামলার কারণ দর্শানোর নোটিশে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। যা সুস্পষ্ট ঔদ্ধত্য ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তথা বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা। বিচারিক আদালতের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত পুলিশ বা গোয়েন্দারা অপরাধী খুঁজে বের করতে কাজ করেন। কোনো বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান করতে, অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে সত্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত পরিচালনা করেন, এবং আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। চার্জ গঠন করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আইনজীবীর জেরার সম্মুখীন হন। সাক্ষ্য প্রমান সাপেক্ষে যথাযথ আইন মেনে রায় প্রদান করা হয়। তাই বিশ্বব্যাপী বিচারিক আদালতের রায় অন্য যেকোনো কর্তৃপক্ষের রায় হতে অগ্রগণ্য। এ রায় নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাও আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাতিয়া উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউপিইটিসি) এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ ছাকায়েত হোসেন এর ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিচারিক আদালত হতে খালাসকৃত অনুরূপ বিষয়ে বিভাগীয় মামলা পরিচালনা করে কেবলমাত্র তাকে হয়রানি করছেন না, বরং আদালত অপমাননাও করছেন।এই অধিদপ্তরে বিচারের বাণী এখন নিবৃত্তে কাঁদে।
এ বেআইনি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তে অনিয়মকে আরো উৎসাহ দেয়। ২০২৫ সালে পত্রিকাগুলো ধারাবাহিক লেখালেখির কারণে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাও হয় দেশব্যাপী শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের। বিষয়গুলি আমার নজরে আসায় বিষয়টির সঠিক তথ্য উদঘাটনে আমি ইচ্ছা পোষণ করি এবং দীর্ঘ সময় থেকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় ডকুমেন্টস বিশ্লেষণ সহ অনুসন্ধান করি। বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রত্যেকটা অনিয়মের সাথে কোন না কোন ভাবে অভিযুক্তরা জড়িত ছিল।
একই ঘটনা একই অভিযোগে একই কর্মচারীর বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি বিভাগীয় মামলা চালানো আইনত অনুমোদিত নয় এবং এটি একটি দ্বৈত বিচার বা double jeopardy এর সমান, যা বাংলাদেশের সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর পরিপন্থী। এই ধরনের পরিস্থিতি আইনত গ্রহণীয় নয় এবং এটি একটি ভুল প্রক্রিয়া।
লেখক: মানবাধিকার সংগঠক।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































