বিজয়নগরে পুলিশ ও গ্রামবাসীর সহায়তায় ব্যবসায়ী উদ্ধার, দুই সহোদর আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে '৯৯৯' এ কল দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছেন রুপক রায় নামে এক ব্যবসায়ী। তাকে আটকে রাখার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা গোপাল রায়ের করা লিখিত অভিযোগ আজ সোমবার (১১ মে) থানায় নথিভুক্ত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আলাদাউদপুর গ্রামের লাভলুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০) ও শাহনূর রহমান।
মামলায় লাভলুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একই অভিযোগে মামলা হয়েছে।
জিম্মি দশায় থাকা অবস্থায় মারধরে আহত ব্যবসায়ী রুপক রায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার সকালে আলাদাউপুর গ্রামের সাহা পাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রূপক রায় আমতলী বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলে তাকে কৌশলে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে রূপক সাহাকে বেঁধে মারধর করা হয়। তার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। রূপকের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনের ম্যাসেজে জানানো হয় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আছেন, তার ফোন হারিয়ে গেছে।
তবে রূপককে আটকে রাখার বিষয়টি দুপুরের দিকে জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে '৯৯৯' এ ফোন করা হয়। পাশাপাশি থানায়ও জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি গ্রামের লোকজন ছুটে গিয়ে রূপককে উদ্ধার করেন। এ সময় লাভলুর রহমান ও তার দুই ছেলেকে আটক করে পুলিশ। পরে লাভলুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রূপক জানান, তাকে আটক করে একাধিক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাকে বেদম পিটিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার সারা শরীর রক্তাক্ত করা হয়।
রূপকের বাবা গোপাল রায় জানান, পুলিশ ও এলাকাবাসী গিয়ে উদ্ধার না করলে হয়তো ছেলেকে ফিরে পেতেন না। এ ঘটনায় রবিবার রাতেই তিনি থানায় মামলা করেন।
রূপকের স্বজনরা জানান, বাড়ি থেকে সামান্য দূরত্বে তাদের দোকানে রূপক না যাওয়ায় তারা চিন্তার মধ্যে পড়েন। পরে জানতে পারেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে। রূপককে উদ্ধারের পর স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারে।
তবে আনোয়ার, তার বাবা ও ভাইয়ের হুমকিতে রূপকের পরিবার তটস্থ বলে জানান তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পরও আসামিরা হুমকি দিচ্ছে। জামিনে বের হয়ে এসে পরিবারের যে কাউকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় শাহনূর।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব সরকার আজ সকালে জানান, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/১১মে/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































