এ বছরই কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করবেন ট্রাম্প, জানালেন নিজেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এ বছর উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এমনটি হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই হবে দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন একটি নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চান। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি করব।’
এর আগে দেয়া বক্তব্যে তিনি কিমের প্রশংসাও করেছেন। গেল সোমবার ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের ফলে কোরীয় উপদ্বীপ অনেক বেশি নিরাপদ হয়েছে। কিমের সঙ্গে তিনি তার প্রথম মেয়াদে তিনবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার জানায়, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই, কিমের সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে ট্রাম্প চাপ দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, কিমের সঙ্গে একটি শীর্ষ সম্মেলন ট্রাম্পের জন্য একটি বড় সাফল্য হবে, বিশেষ করে যখন ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অজনপ্রিয় যুদ্ধ অমীমাংসিত রয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিও অপূর্ণ রয়ে গেছে।
তবে, কিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টার পেছনে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর প্রভাব খাটানোর একটি কৌশলও থাকতে পারে, যা কূটনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের লেনদেনমূলক পদ্ধতির একটি সাধারণ উদাহরণ।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রাম্প। এর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিতে রাজি হয়নি দক্ষিণ কোরিয়া।
ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের পরিবর্তন ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া তার ক্ষেপণাস্ত্রের ভেতরে স্থাপনের উপযোগী ছোট আকারের পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করেছে—এমন খবরের পর ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘আগুন ও ক্রোধের’ হুমকি দিয়েছিলেন।
এরপর ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে প্রথম ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপের ‘সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে’ সম্মত হন।
তবে ২০১৯ সালে হ্যানয় এবং কোরীয় অসামরিকীকরণ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত পরবর্তী বৈঠকগুলোতে প্রাথমিক চুক্তির ওপর আর অগ্রগতি হয়নি। যদিও ওই সময় ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে অল্প সময়ের জন্য প্রবেশ করা প্রথম ও একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
এরপর উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে, নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তবুও ট্রাম্প বলেছেন, কিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও ‘হুমকিমুক্ত ও সম্মানজনক’। সূত্র: আল আরাবিয়া ও আল জাজিরা
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































