ঢাকাটাইমসে সংবাদ: দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরানো হলো কুষ্টিয়া সদর থানার সেই ওসিকে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার রাতে ঢাকা টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।
ডিআইজি বলেন, শেখ ওবায়দুল্লাহকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে শেখ ওবায়দুল্লাহকে কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কুষ্টিয়া মডেল থানাসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন শেখ ওবায়দুল্লাহ। ওই সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আটক, নির্যাতন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তাকে কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি করার পর এসব অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শেখ ওবায়দুল্লাহর অতীত ভূমিকা ও তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বুধবার ঢাকা টাইমসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপরই তাকে সদর থানার ওসির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিথুন তার ফেসবুক পোস্টে শেখ ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। তার দাবি, ২০১৮ সালে কুষ্টিয়ায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ৩৬ নেতা-কর্মীকে আটকের পর তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ককটেল উদ্ধারের অভিযোগে মামলা দেওয়া এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান এর আগে ঢাকা টাইমসকে বলেছিলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অপকর্মের বিষয়ে তার জানা নেই। বিষয়টি দেখা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে শেখ ওবায়দুল্লাহকে সদর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে জেলা বিএনপির নেতাদের সুপারিশ ছিল বলে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































