ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৯
অ- অ+

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ও প্যালেট গান ব্যবহারের ঘটনা তাদের নজরে এসেছে। ভারতীয় তরুণদের গত মাসের ওই বিক্ষোভে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোমবার তাদের এক প্রতিবেদনে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের বিবরণ দিয়েছে। তবে তাতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই পুলিশের পক্ষ থেকে বল প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারী ও পুলিশ—উভয় পক্ষের সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি প্যানেল গঠন করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এমন পরিস্থিতিতে অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয় তেলাপোকাদের এই বিক্ষোভ। শুরুর দিকে বেশ শান্তিপূর্ণ হলেও গত ২০ জুলাই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। সেদিন হাজারো বিক্ষোভকারী ভারতের পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্যালেটচালিত শটগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি ও ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং তাদের যাচাই করা চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে সংগঠনটি এ কথা জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, বিহারের সিওয়ান জেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার ‘জনতার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের’ দুটি ঘটনা যাচাই করে দেখা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

এসব অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড এবং অভ্যন্তরীণ পুলিশি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিচ্ছিন্নভাবে পাথর ছোড়ার কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া ছিল ‘রাষ্ট্র-অনুমোদিত সহিংসতার’ শামিল।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই তারা বল প্রয়োগ করেছিল। পুলিশ আরও বলেছে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে থাকা ‘সমাজবিরোধী দুষ্কৃতকারীরা’ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর আহত করেছে।

গত শুক্রবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির একটি থানার বাইরে ১৯ বছর বয়সী একজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান ধর্মঘট করেন। ওই বিক্ষোভকারী জানান, গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে তিনি প্যালেটের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী ঘটনাটির তদন্তের দাবি তুলেছেন। পরে ওই বিক্ষোভকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে সিজেপির বিক্ষোভের সূত্রপাত। সমালোচকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল এটি। ২০২৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদির সামনে এ বিক্ষোভ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছিল। শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে আপাতত সেই বিক্ষোভ সামাল দিয়েছেন তিনি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন
যমজ কন্যাসন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা
আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার
যশোরে বাবার লাশ বারান্দায় রেখেই জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষে আহত ৫
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা