‘মুখোশধারী অনেকে এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন’

মুখোশধারী অনেকে এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশে ফ্যাসিজম যাতে আবার ফিরে আসতে না পারে, একই সঙ্গে তারাও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠেন এমন একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর বনানীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজে অনেক মানুষ আছেন, যাদের চোখে আলো থাকলেও তারা মানুষের অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে চোখ বন্ধ করে আছেন। অন্যদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখার শক্তি দেখতে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকের মানুষের মতো মুখোশ আছে। সেই মুখোশ নিয়ে আমরা যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি না’ ২০১৪ সালের জুলাই-আগস্টে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা এবং আহত-নিহতদের দুর্দশা।
আসাদুজ্জামান দাবি করেন, ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়ে কেউ হাত, কেউ পা কিংবা শরীরের অন্য অঙ্গ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টায় আছে। আমরা বলব, আপনারা যে যেখানেই থাকুন, চোখ খুলুন।’
তার ভাষ্য, সরকার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো অপরাধ করলে নাগরিকদের তা দেখিয়ে দেওয়া দায়িত্ব। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের এ দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে ভুল সংশোধন করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশের পথ ধরে হাঁটতে চাই। আর চাই বলেই আমরা বিশ্বাস রাখি, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিজম যাতে আবার পুনর্বাসিত না হয়, আমরাও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারি। সেরকম একটি রোডম্যাপ আসেন তৈরি করি। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী ১০ বছরের শিশু আনাসের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে মুক্ত করতে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের স্বাদ দিতে শিশুটিও নিজের বিবেকের তাড়নায় মিছিলে গিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































