প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, খুলছে পদোন্নতির পথ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫০
অ- অ+

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে আটকে থাকা পদোন্নতি প্রক্রিয়া আবারও শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে। গ্রেডেশন তালিকা তৈরির পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তি করে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদনের পর প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, ‘মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে।’

যে কারণে আটকে ছিল পদোন্নতি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে বড়সংখ্যক শূন্যতা রয়েছে। তবে এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে।

২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাঁদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এ-সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়।

এর ফলে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আটকে যায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও।

আপিল বিভাগের রায়ের পর জটিলতা কাটল

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে হাইকোর্টের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয়।

আপিল বিভাগের ওই সিদ্ধান্তের পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ আবার খুলেছে। এখন মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা যাচাই-বাছাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির পর তা পিএসসিতে পাঠানো হবে। এরপর পিএসসির অনুমোদন সাপেক্ষে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় দ্রুত অগ্রগতি আনতে কাজ চলছে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঝিনাইদহে বাস চাকায় পিষ্ট হয়ে স্ত্রীসহ সেনা সদস্য নিহত
ঢাকা মাতাতে আসছেন পপতারকা ওটিলিয়া
রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করতে পারি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দামে
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা