রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা সংকট, মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

ঝালকাঠির রাজাপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে শয্যা সংকট চলছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হওয়ায় শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও অন্যান্য রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে শয্যা রয়েছে মাত্র ৫০টি। জনবল বাড়লেও দীর্ঘদিনেও বাড়েনি শয্যা সংখ্যা। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে পাঁচজন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে অবস্থান করছেন।
এর মধ্যে উপজেলার পূর্ব আংগারিয়া গ্রামের সুজন শিকদারের আড়াই বছরের ছেলে রহমত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শনিবার তাকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তবে ভেতরে কোনো শয্যা না পাওয়ায় তাকে বারান্দার মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
রহমতের সঙ্গে থাকা তার মা রহিমা বলেন, হাসপাতালের ভেতরে কোনো সিট পাইনি। বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। শিশুকে নিয়ে এখানে থাকা খুবই কষ্টকর।
এভাবে আরও চারজন ভর্তি রোগী শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাজাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা সংকট দীর্ঘদিনের। সবসময়ই ৭০ থেকে ৮০ জনের মতো ভর্তি রোগী থাকেন। আজও ১০ জন ডায়রিয়া ও ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্তসহ প্রায় ৭০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে অন্য রোগীদের রাখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে শয্যা সংকট থেকেই যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গাদাগাদি করে যতটা সম্ভব রোগীদের ভেতরে জায়গা দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে কিছু রোগীকে বারান্দায় রাখতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা দ্রুত রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(ঢাকা টাইমস/৩০আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন









































