ধউর-আশুলিয়ায় চালু হলো দুই সার্ভিস সেতু, লাগবে না টোল

রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো এবং ধউর-আশুলিয়া এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের পৃথক সেতু দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
ধউর ব্রিজের ওপর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে। একই সঙ্গে ঢাকার চারপাশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি যানজট কমাতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, একসময় প্রকল্পটির কাজ স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করায় কাজ আবার গতি পেয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ছয় মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউটিলিটি স্থানান্তরকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে এ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে প্রকল্পের প্রতিটি ব্যয় যৌক্তিক ও অপচয়মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের আরও একটি বড় অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে মূল প্রকল্পকে প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন সার্ভিস সেতু দুটি টোলমুক্ত থাকবে। একটি সেতু দিয়ে ধউর থেকে আশুলিয়ার দিকে এবং অন্যটি দিয়ে আশুলিয়া থেকে ধউরের দিকে যান চলাচল করবে। ভবিষ্যতেও এসব সেতুতে কোনো টোল নেওয়া হবে না বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পানি প্রবাহ ঠিক রেখে কারিগরি মান নিশ্চিত করে দুই লেনের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের বাকি কাজ অনুমোদিত নকশা, নিরাপত্তা বিধি ও চুক্তির শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
সার্ভিস সেতু দুটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচলের জন্য চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে ঢাকা-আশুলিয়া করিডোরের যানজট কমানোর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের পণ্য ও মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































