শরীয়তপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো.জুলহাস নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। গত একমাস ধরে এ দখলদারি চললেও বিষয়টি নিয়ে উদাসীন প্রশাসন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই সরকারি সম্পদ দখলের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্পত্তিটি উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে মহিষার ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক দিয়ে ভবনের ঢালাইয়ের কাজ করছেন আশিক ছৈয়াল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে তিনি দাবি করেন সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় তিনি রায় পেয়েছেন। তবে রায়ের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে রাজি হয়নি। প্রকাশ্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেলে কথা হয় ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আহম্মেদ ছৈয়ালের সাথে। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে আবুল কালাম আজাদ ও নুর ইসলাম সরকারের কাছ থেকে ৯০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেয়। এরপর ১৯৭৯ সালে বন্দোবস্ত আইন ভঙ্গ করে জমি বিক্রি করে আবুল কালাম আজাদ। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৮ সালে আদালতে মামলা হলে আবুল কালাম আজাদ ও নুর ইসলাম ছৈয়ালের বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়। এরপর থেকে ওই জমি আবুল কালাম আজাদের ছেলে আশিক ছৈয়াল জোরপূর্বক দখল করে রাখে। সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা শুরু করে। জুলাই মাসের ২৮ তারিখ ভূমি অফিস থেকে লোকজন এসে সাইনবোর্ড ও সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশানা দিয়ে যায়। দু'দিন পরে সেই সাইনবোর্ড ও লাল নিশানা উঠিয়ে আবারও কাজ শুরু করে। আদালতে মামলা চলমান, নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও সরকারি জমিতে কিভাবে ভবন নির্মাণ করে এটা আমার জানা নেই।
স্থানীয় প্রতিবেশী রুহুল আমীন বলেন, সরকারের জমি এখানে দখল করে খাচ্ছে কিন্তু প্রশাসন কিছুই বলছে না। আদালত যেখানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সেটাও মানছে না, এটা কি ভাবে সম্ভব। এখন দেখছি স্থায়ীভাবে দখলের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করছে। প্রশাসনকে জানিয়েও নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি।
এ বিষয়ে দখলদার আশিক ছৈয়াল সম্পত্তিটি নিজের বলে দাবি করে বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকেই আমরা জমিটির ভোগদখল করে আসছি। সরকারি জমি দখল করতে পারি বিধায় দখল করি। আদালতে মামলা চলমান আপনার কথা থাকলে আদালতে গিয়ে বলুন। এখানে কতটুকু খাস সেটা আদালত বুঝবে। কোর্ট থেকে এসে দেখেও গেছে, সাইনবোর্ড সরিয়ে নিয়ে গেছে, আমাদের কাজ করার অনুমতি দিছে তাই কাজ করি।
জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে.এম রাফসান রাব্বি বলেন, সাজানপুরে সরকারি খাস জমিতে ভবন নির্মাণের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জমির মালিক দাবি করা জুলহাজ ( আশিক ছৈয়াল) পালিয়ে যায়। পরে সেখানে সরকারি সাইনবোর্ড ও সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশানা দিয়ে এসেছি। এরপর সরকারের বিরুদ্ধে তারা দেওয়ানি মামলা করে। পরে আদালত সেখানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। শুনলাম কয়েকদিন ধরে সেখানে পুনরায় কাজ শুরু করছে। তিনি আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন। যখন একটি মামলা বিচারাধীন থাকে, তখন আমরা লিখিতভাবে আদালতকে জানাবো যে, আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়েছে। এরপর আদালত অবমাননার শাস্তি আদালতই দেবেন।
(ঢাকা টাইমস/২সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































