উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের নৈতিকতা উন্নত করা বাঞ্ছনীয়

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী
| আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৫৭ | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৪৫

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সিংহভাগ এখন ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক কর্মসূচি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ দুই দশক আগেও চিত্রটি ভিন্ন ছিল। তখন বিজ্ঞানবিষয়ক কর্মসূচিতে ভর্তির ব্যাপারে আগ্রহ বেশি ছিল। সমস্যা হলো বিজ্ঞানবিষয়ক সব কর্মসূচির বাজার ছিল না। যেমন ‘বোটানি’। অথচ এক সময় এ সাবজেক্টের অবদান কম ছিল না। পৃথিবীর অন্যতম সত্য হচ্ছে আজ যে বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, কাল হয়তো সে বিষয় গুরুত্ব নাও পেতে পারে। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, বিশ্বের উন্নত সভ্যতার দেশগুলোতেও প্রযোজ্য।

আজ থেকে দুই-আড়াইশ বছর আগে ব্রিটেনের সম্ভ্রান্ত বংশীয় ছাত্রছাত্রীরা ‘থিওলজি’ অধ্যয়ন করত। অথচ আজ সময়ের বিবর্তনে, চাহিদার নির্দেশনা অনুযায়ী ‘থিওলজি’র ওপর গুরুত্ব শতাংশের হিসাবে প্রায় ০.১ এর কোটায় বা তার নিচে। বস্তুত চাকরির বাজার দ্বারা নির্ধারিত হয় চাহিদা সরবরাহ। শিক্ষকদের এদেশে প্রাচীনকাল থেকে ‘গুরু’ হিসেবে সম্ভাষিত করা হয় এবং ছাত্রছাত্রীদের অভিহিত করা হয়ে থাকত ‘শিষ্য-শিষ্যা’। বর্তমানে প্রাথমিক ক্ষেত্রে সে আগের দিনের গুরু প্রথা বাতিল হয়ে গেছে। শিষ্য/শিষ্যা প্রথাও অনেকটা বিলুপ্তপ্রায়।

সমাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শিক্ষক থেকে আরম্ভ করে সবাই রাতারাতি বড়লোক হতে চায়। এজন্য লাল, সবুজ, হলুদ, কালো, গোলাপি, বেগুনি, বর্ণহীন রং কোনো গ্রুপ আর তদানুযায়ী বিভক্তির অভাব নেই। এই বিভক্তি এত দ্রুত ধাবমান যে শ্রেণিকেন্দ্রিক উন্নত শিক্ষা প্রদান বাদ দিয়ে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের আখের গোছাতে নানামুখী প্রচার প্রোপাগাণ্ডা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতে পারিÑ যেখানে বর্তমানে এক বিভাগীয় প্রধান একদম অসততার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের মগজ ধোলাই করে চলেছেন তিনি সে বিশ্ববিদ্যালয় দুর্বৃত্তায়ন করে থেকে গেছেন। ওই একই বিভাগের আরেক শিক্ষক মিথ্যা ছাড়া সত্য বলেন না, বহাল তবিয়তে বর্তমানে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাদের আবার অসৎ কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতা উপ-রেজিস্ট্রার যে গার্মেন্টের শ্রমিক নেতার মতো আচরণ করত বর্তমানে স্ব-ইচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যান না। চারজন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যের মধ্যে সবাই অন্যায় মতাদর্শ বাস্তবায়নে বিশ্বাসী কিংবা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত যাদের অন্যায় অনাচার আর পাপের বোঝা এখন দিন দিন বেড়ে চলেছে বর্তমান সরকারবিদ্বেষী হয়েও।

অথচ সমাজে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কাশিমপুরে জমি দিয়ে সেটি আবার ছুটিয়ে টাঙ্গাইলে নয়-ছয় করে চিন্তায় ব্যস্ত- কী করে কূটনৈতিক পাড়ায় বাড়ির মালিক নানামুখী মিষ্টি তিতা বুঝিয়ে থেকে যাওয়া যায়। অথচ অনেক আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, কূটনৈতিক পাড়ায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চলবে না। যেটি দেশের ইজ্জতের সঙ্গে জড়িত। এমনকি এ বিত্তশালীরা প্রাক্তন উপাচার্যের প্রায় আট লাখ টাকা দিচ্ছে না উকিল নোটিশ পাঠিয়েও ফল হচ্ছে না। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ডেপুটি ডিরেক্টরকে পরিচালনা পর্ষদের ছত্রচ্ছায়ায় আগের মতো দুর্নীতিতেও মগ্ন।

আসলে শিক্ষা যখন বেনিয়া হয়ে উঠে, তখন ইউজিসি শত চেষ্টা করলেও তাদেরকে আটকানোর কোনো সহজ পথ নেই। ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান যতই শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য প্রয়াস নিতে চান না কেন, একটি জায়গায় এসে উনি হয়তো সীমাবদ্ধতা টের পেয়ে যান। নচেৎ টাঙ্গাইলে চলে যাওয়ার নির্দেশ সত্ত্বেও কেবল ক্ষমতার দাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টি কূটনৈতিক পাড়ায় চলছে। উকিল নোটিশের জবাব না পেয়ে কিংবা প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানকে বললে মিথ্যা দোহাই দেন। আমি তখন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পরিষদে ছিলাম না। সুশীল সমাজের লোক যখন কুশীল সমাজের কাজ করে নয়-ছয় করে তখন বলার মতো কিছুই থাকে না। বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছেন চলতি বছরের শেষভাগে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল স্থাপন করার।

সম্প্রতি শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সরকার কর্তৃক আয়োজিত প্রকল্পের আওতায় যা বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রচলিত হচ্ছে- হেকাপের মূল ভালো কাজ ছিল ৬৯টি বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইকিউসি স্থাপন করা। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা ৩৮টি। এ ৩৮টির মধ্যে আবার আইকিউসির কার্যক্রম বাস্তবায়নে মূল সমস্যা হচ্ছে, আইকিউসির পরিচালকের পদমর্যাদা কী হবে। থাইল্যান্ডে আইকিউসির ডিনের পদমর্যাদা হচ্ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট মর্যাদায়। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে দাঁড়াচ্ছে উপ-উপাচার্য সমকক্ষের। কিন্তু এটি করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোতে যে পরিবর্তন করতে হয় সেটি কিন্তু সংসদে পাস হয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংযুক্ত হওয়া দরকার। আর ডাইরেক্টর আইকিউসিকে রিপোর্ট করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। কিন্তু মুশকিল হলো মাঝখানের স্তরগুলো রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, উপ-উপাচার্য নাখোশ হয়Ñ একই অবস্থা বেসরকারি খাতেও। তারপরও ইউজিসি এবং কোয়ালিটি এস্যুরেন্স ইউনিট তাদের আন্তরিকতায় কাজ করে চলেছে।
এ কাজগুলো অবশ্যই এককেন্দ্রিককরণ প্রয়োজন বিচ্ছিন্নভাবে, বিচ্ছিন্নভাবে করলে চলবে না। যিনি কোয়ালিটি নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করে চলেছেন তাকে অবশ্যই নিরন্তর অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাইট ম্যান ইন দ্যা রাইট প্লেস দরকার। এখন কৌশলগত শিক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে যদি মনে করি অ্যারাবিকের একজন শিক্ষক উপস্থাপন করেন কিংবা ইতিহাসের একজন শিক্ষক যিনি নিজে কোর্স-কারিকুলাম নিয়ে কখনো কাজ করেননি- তিনি উপস্থাপন করেন তখন হ-য-ব-র-ল হবে। প্লান ডু চেক অ্যাক্ট এক্ষেত্রে কেবল খাবি খেতে থাকবে। আর যে ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প আছে সেটির কোনো মূল্য থাকবে না।

‘অটিজম’ এ অক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের কিভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ডিয়েল করে কর্ম উপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন সে জন্য একটি শিডিউল তৈরি করা হয়েছিল। ইউজিসির চেয়ারম্যান সেটি উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নানা কারণে স্থগিত। আসলে যেকোনো কাজের ধারাবাহিকতা থাকা বাঞ্ছনীয়। আইকিউসির ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। আগামী ২০১৯ সালে হেকাপ প্রকল্পে মেয়াদ শেষ হলে আইকিউসির মতো উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, আউটকাম বেইজড টিচিং লার্নিং প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালুকরণ করা, বল্মু টেকনোলজির ব্যবস্থা গ্রহণ করা, অ্যাসেসমেট পদ্ধতিতে উন্নয়ন করা, শিক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগীকরণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নতকরণ একটি বৈপ্লবিক চিন্তা-চেতনার কাজ, কিন্তু প্রকল্প শেষ হলে আর দশটা সাধারণ প্রকল্পের মতো এটি মাঝপথে থেমে যাবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়। যদিও বর্তমানে ইউজিসির কোয়ালিটি ইউনিট হয়তো ইউজিসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলতে পারেন যে, প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও আইকিউসির কার্যক্রম চালু রাখা এবং বেসরকারিগুলোকে বলতে আইকিউসির কার্যক্রম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ২০১০ এর আওতায় ই-টার্নাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স হিসাবে চালুকরণ করা। বর্তমানে দুটো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্ব-উদ্যোগে আইকিউসি চালু করেছে। কিন্তু আর যারা করেনি তাদের কী হবে? আবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে স্বায়ত্তশাসন, স্বায়ত্তশাসন করে চিল্লায় তার কী হবে?

বস্তুত তারা কী স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে প্রকল্প শেষ হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে আইকিউসি রাখতে দেবেন। বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, আইকিউসি অ্যাকচুয়েলি ইন্টার্নাল ও অ্যাক্সটার্নাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্সের কার্যক্রমে সমন্বয় করে থাকে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোবেইজড ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে যে স্টাডিটি হয়েছিল সেটি অনেক ভালো দিকনির্দেশনা ছিল। আসলে বাংলাদেশের জন্য ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করে পার্লামেন্টে আইন হিসাবে পাস করা দরকার। তেমনি বর্তমান সরকারের আমলে একটি ভালো প্রকল্প আইকিউসি যাতে প্রতিটি উচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল থাকে কর্মসূচি হিসাবে সে জন্য আইন করা বাঞ্ছনীয় সে জন্য উদ্যোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। নচেৎ চিঠিপত্র লিখে এদেশে খুব স্বল্পই কাজ।

একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ হিসাবে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে এ ব্যাপারে বুঝাতে পারেন। আসলে এ দেশে বহুরূপীর সংখ্যা কম নয়। ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টায়। কিন্তু যারা সাচ্চা মানুষ দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন তারা বাস্তবতা বুঝে ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন পর্যন্ত শিক্ষা আইন ২০১৬ এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি আর আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট একই সূত্রে গাথা। আসলে দুঃখজনক হলেও সত্য, একটি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও প্রাইমারি থেকে হায়ার সেকেন্ডারি পর্যন্ত শিক্ষার উন্নতিতে প্রধান অন্তরায় শিক্ষকরা। তারা ফাঁকি দিতে যতটা না ব্যস্ত এবং এই কালো শিক্ষকদের জন্য ভালো শিক্ষকরা অনুৎসাহিত হন। কেননা কালো শিক্ষকরা আবার সিন্ডিকেট বা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। হয়তো তাদেরই কর্মকা- হবে সাম্প্রতিক খবর জেএসসিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস। লেকহেড গ্রামার স্কুলটি বন্ধ করা একদিকে যেমন ঠিক হয়েছে সেখানে যদি মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ্বাসী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করেন এমন শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাপনায় আমূল পবিরর্তন আনা যেত তবে হয়তো এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানের শিক্ষা পদ্ধতি সংশোধন থেকে বেরিয়ে আসত।

হিসাব করলে দেখা যাবে বেশ কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদে উৎসাহিত করে থাকেন তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এরা ভিন্ন গ্রহের মানুষ। নিজের দেশকে একটুও ভালোবাসে না বলে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট দেখা যায়। অন্যের প্রবন্ধ কাট-পেস্ট করে অনেক শিক্ষক প্রবন্ধ প্রকাশ করে। শিক্ষককে সততা, নৈতিক বলে বলীয়ান হওয়া দরকার। দেশের যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানে বেশ কিছু অপকর্ম ঘটিয়েছেন বলে পত্রিকায় দেখা যায় তারা কিন্তু এখন সংশোধন হয়েছে কি না দেখা দরকার।

এদিকে মালয়েশিয়ায় পড়ে আসা ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ, বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে আসা কানাডা ছাড়াও তুরস্কে পড়ে আসা ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ দেশবিরোধী কাজ করছেন বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে। তারপরও অবাক হচ্ছি ‘মালয়েশিয়াস্থ নটিংহাম ইউনিভার্সিটি’তে কলেজ শিক্ষকদের মানোন্নয়নে প্রেরণের কর্মসূচি দেখে। বিকল্প দেশে হতে পারত এআইটি এক্সটেনশন কিংবা এমটিসি গ্লোবাল ভারতে প্রশিক্ষণ হতে পারত। স্কিল ম্যাপিং, কোর্সে লার্নিং আউটকাম থাকা, প্রোগ্রাম আউটকামের সঙ্গে কোর্স আউটকামের মিল থাকা, প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব ভিশন (রূপরেখা) এবং মিশন থাকা বাঞ্ছনীয়। এটি একটি চলমান পদক্ষেপ। আমার প্রত্যাশা সরকার প্রধানের কাছে যেহেতু উনি শিক্ষানুরাগী হেকাপের মেয়াদ ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিতকরণ এবং কলেজ এডুকেশনে মানোন্নয়নের জন্য কনসালটেন্ট হিসাবে অত্যন্ত জ্ঞানী কোয়ালিটি এস্যুরেন্স এক্সপার্ট যার পিতার দিক দিয়ে আদিবাড়ি ছিল ফরিদপুর এবং মাতার দিক দিয়ে বরিশাল। যিনি এমটিসি গ্লোবাল ভারতের প্রেসিডেন্ট ড. ভোলানাথ দত্তকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দেশে শিক্ষা নিয়ে কী ধরনের দুর্বৃত্তায়ন হয় একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ইউজিসি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মহোদয় এবং শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকেই এখন নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাচ্ছে এটি সাধুবাদ যোগ্য। এখন এক্ষেত্রে চাঁদ সওদাগর কর্তৃক মনসার সুজার মতো অ্যাপ্রোচ রোড ছাড়াই যাচ্ছে। একজন বিদেশি কিউএ এক্সপার্ট সাতারকুলে গিয়ে তিনদিনই দেখলেন যে, প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে। বাধ্য হয়ে উনি জিজ্ঞেস করলেন, এ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করার দায়িত্ব কার? উত্তর হলো সিটি করপোরেশনের। এটা জানানোর দায়িত্ব এবং যোগাযোগের দায়িত্ব কার জবাব এলো বিশ্ববিদ্যালয়ের। সম্মিলিত রিপোর্টে এলো যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া। অথচ যে ভদ্রলোক আইকিউসির পরিচালক মালিক পক্ষ থেকে ঠেলা খেয়ে অর্ধ সত্য জানালেন ফরেন কিউএ এক্সপার্ট এর দায়িত্ব বহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীকে যদি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে তবে কি পড়ার ধৈর্য থাকে।

আরো মজার কথা হলো, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার মাসখানেক কম সময়ের মধ্যে ফরেন কিউএ এক্সপার্ট হিসাবে উনাকেই আনা হয়। আসলে শিক্ষকরা যখন নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, মিথ্যা বলে, পরনিন্দা করে, অর্ধসত্য বলে তখন তাদেরকে কি শিক্ষক বলা যায়? এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের একজন সদস্য যিনি ক্ষমতা থাকাকালে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছিলেন এখন বহাল তবিয়তে সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং মোটামুটিভাবে বর্তমান সরকারকে পছন্দ করেন না আবার বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সমস্যা হচ্ছে তা মূলত নিজেদের আখের গোছানোর দ- যুদ্ধ। আর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে যেমন কুমিল্লায় জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করেছেন। সেক্ষেত্রে দুর্নীতিতে পেছপা হননি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার সম্পর্কে নানাজন নানা কথা বলে।

বস্তুত বর্তমান শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি দুষ্টু কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের প্রমাণ সাপেক্ষে ছাঁটাই করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। এরা রক্ত বীজের মতো একজন থেকে সৃষ্টি হয় লক্ষ জন। তাই ঠা-া মাথায় আমাদের আগামী প্রজন্ম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস টেস্ট শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে কয়েকজন সোমালিয়ান ছাত্র প্রশ্ন চাইলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাদের অন্য সেকশনে দিলে পরবর্তী সেমিস্টারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক যিনি পার্টটাইম অ্যাডভাইজার হিসাবে ফুলটাইম এনজয় করেন তিনি ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স থেকে শিক্ষককে বাদ দিয়ে দেন। আজ সময় এসেছে যে দলেরই হোক দুর্বৃত্ত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা। হেকাপ প্রজেক্টের সময়সীমা ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করা প্রয়োজন।

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী: শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত