হালুয়াঘাটে ‘ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস’ পালিত

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
 | প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৮

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল মহান শহীদদের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ, কবর জেয়ারত ও দোয়া মাহফিল, ‘ঐতিহাসিক তেলিখালী দিবসে’র তাৎপর্য শীর্ষক স্মৃতিচারণ সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সঙ্গীতানুষ্ঠান, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী।

সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। দিনব্যাপী এ আনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ -১ (হালুয়াঘাট) আসনের সাংসদ জুয়েল আরেং।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন- পৌর মেয়র খায়রুল আলম ভূঁঞা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুর নাহার, হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবিরুল ইসলাম বেগ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ‘ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস’। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক গৌরবময় দিন হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। গারো পাহাড়ের পাদদেশে হালুয়াঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই ‘তেলিখালী’ এলাকা ‘৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক ঐতিহাসিক রণাঙ্গণের নাম।

আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ৩ নভেম্বরের এই দিনে ‘মা-মাটি ও অসহায় বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে’ এদেশের দামাল ছেলেরা নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে শত্রুসেনা হানাদারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির প্রত্যাশায় এই ‘তেলিখালী রণাঙ্গণে।’ মুক্তি সেনাদের দৃঢ় সম্মুখ সমরে রক্তাক্ত প্রান্তর হয়ে উঠেছিল ‘তেলিখালী’ এলাকা। পবিত্র মাটিকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে জীবনযুদ্ধের এ সম্মুখসমরে লালে লাল রক্ত অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ‘তেলিখালী’ জয় করে বিজয়ের ‘লাল সবুজ পতাকা’ উড়িয়ে ছিল সেদিন।

বাংলার মাটিকে মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর ২৮ জন গর্বিত সন্তান সেদিন অকাতরে শহীদের খাতায় নাম লিখেছিলেন। তাদের বুকের তাজা রক্তের বন্যায় সেদিন পতন হয়েছিল হানাদার বাহিনীর একটি বিশাল শক্তিশালী ঘাঁটির। ‘৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের ‘ঐতিহাসিক তেলিখালী’র এই গর্বিত বিজয় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার পথে নতুন করে সাহস যোগায়। সেইসাথে তরুণ তুর্কিদের দৃঢ় মনোবলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়কে আরো সহজ করে দেয়। ‘তেলিখালীর বিজয়’ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের মাটিকে মুক্ত করতে জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দেয়ার উৎসাহে বিজয়ের পথযাত্রা ত্বরান্বিত করায় দ্রুততম সময়েই উড়েছিল বাংলার মাটিতে ‘লাল সবুজ পতাকা’।


স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই ৩ নভেম্বর ‘ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবসকে’ সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো।

(ঢাকাটাইমস/৩নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :