ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি এখন মরণফাঁদ!

বদরুল ইসলাম বিপ্লব, ঠাকুরগাঁও
 | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ৫নং হরিপুর সদর ইউনিয়নে অবস্থিত কারিগাঁও-দনগাঁও সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেতুটি পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছেন এবং শিগগির তা বাস্তবায়ন হবে। 

হরিপুর উপজেলার ৫নং হরিপুর সদর ইউনিয়নের নোনা নদের উপর ২০০৪ সালে সেতুটি নির্মিত হয়। ছোট আয়তনের ওই ব্রিজের উপর দিয়ে বিভিন্ন গাড়ি চলাচল করায় ব্রিজটির উভয় পাশের রেলিংগুলো ভেঙে পড়ে। তাছাড়া স্থানীয় নেশাখোররা রেলিংয়ের রড কেটে নিয়ে যাওয়ায় ব্রিজটি রেলিংবিহীন হয়ে পড়েছে। গত বছর বন্যায় ব্রিজটির উভয় ধারের উইন ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংলগ্ন মাটি বন্যার পানিতে ভেসে যায়। এ অবস্থায় ভারী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নড়বড়ে ওই সেতুটি সংস্কারে উপজেলা উন্নয়ন-সমন্বয় কমিটির সভায় বাববার দাবি তুললেও সেতুটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের সাংসদ দবিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রার্থী প্রচারণা চালাতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানায়। 

স্কুলশিক্ষক মোনাব্বর হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, দনগাঁও ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। সেতুটির জীর্ণ দশার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করছি। কিন্তু আমাদের দাবি নেতাদের কানে পৌঁছায় না।

সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হক ঢাকা টাইমসকে বলেন, এ সড়কের উপর দিয়ে দনগাঁও, মালদহ খ- ও ডাঙ্গীপাড়া এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল রিকশা-ভ্যান যোগে হরিপুর উপজেলা শহরে নিয়ে যায়। কিন্তু সেতুর রেলিং না থাকায় প্রায়ই রিকশা-ভ্যান সেতু থেকে নিচে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।
হরিপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী জাহান বলেন, দনগাঁও সেতুটি এ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এটি নড়বড়ে হওয়ায় যেকোনো সময়ে ভারী যানবাহনসহ ভেঙে পড়তে পারে।

হরিপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মংলা জানান, সেতুটি সংস্কারের জন্য উপজেলা উন্নয়ন সভায় বেশ কয়েকবার প্রস্তাব তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত আকারে রেজুলেশন হয়েছে। ওই রেজুলেশন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ ব্যাপারে হরিপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ ঢাকা টাইমসকে জানান, দনগাঁও সেতু নতুনভাবে নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্কিম পাঠানো হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৭০ মিটার। ইতিমধ্যে মেইনটেনেন্সের আওতায় সেতুটি সংস্কারের জন্য অনুমোদন পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। খুব শিগগির সেতুটির সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :