সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল বন্ধ, সরানো হচ্ছে রোগীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:১১ | প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৫

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে দুর্ভোগে পড়েছেন দেড় হাজারের বেশি রোগী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের এই হাসপাতালে আগুন লাগার পর রোগীদের অনেকে আতঙ্কে বেরিয়ে আসেন। এরপর সব রোগীকে বের করে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রাঙ্গণ ও সামনের মাঠে তারা অবস্থান নেন। আর আইসিইউতে থাকা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের হাসপাতালগুলোতে। রাত পৌনে নয়টার দিকে মাইকিং করে হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ১৫ শ’ রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় যারা হাসপাতালের বারান্দা বা আশেপাশের খোলা জায়গায় অবস্থান করেছেন, তাদেরকে সাময়িক সেবা দিয়েছেন নার্সরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন লাগার পরপরই অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা তা নেভানোর কাজ শুরু করেন। রাত নয়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান বাহিনীর মহাপরিচালক ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান।

এর আগে রাত সোয়া আটটায় একটি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, আগুন নেভাতে এসে প্রথমে পানি সঙ্কটে পড়েছিলেন তারা, তবে পরে তা কেটে যায়। নিচতলার স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে ধোঁয়া উপরে উঠে যায়।’

স্টোরে অনেকগুলো কক্ষ থাকায় সেগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে আলী আহম্মেদ বলেন, ‘ভেতরে ছোট ছোট আগুন ছিল, স্মোক আছে। আমরা রুমগুলো চেক করে দেখছি।’ রাত নয়টা পর্যন্ত ভবনের বিভিন্ন তলায় তল্লাশি করে হতাহত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

আগুনের সূত্রপাত ঘটার পরপরই হাসপাতালটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সোয়া সাতটার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

এদিকে হাসপাতালে আগুন লাগার পরে আতঙ্ক আর চিৎকার চেঁচামেচি করে তৎক্ষনাৎ নীচে নেমে আসেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এসময় ডাক্তার ও স্বজনরা রোগীদেরকে নামিয়ে আনেন।

রোগীদের অনেককে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকীদেরকে রাখা হয় হাসপাতালের নীচের বারান্দা, মাঠ ও রাস্তার পাশের খোলা জায়গায়। চিকিৎসা নিতে এসে অনাকাক্সিক্ষত এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বিরাজ করে তাদের মনে। পরে হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হলে বাকি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শহীদ নামে এক ব্যক্তি ঢাকা টাইমসকে জানান, তার এক বছরের শিশু ভর্তি ছিল হাসপাতালে। ঘটনার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। সবার চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে বাচ্চাকে নিয়ে  নীচে নেমে আসেন।

২১ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রুপালী বেগম। আগুন লাগার পরে তাড়াহুড়ো করে তাকে নীচে নামানো হয়। পরে রাখা হয় বারান্দায়। অসুস্থ রুপালীকে এসময় স্যালাইন দেয়া হলেও প্রয়োজনীয় স্ট্যান্ড ছিলনা। তার  ছেলে বিল্লালকে স্যালাইন হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এমন দৃশ্য হাসপাতালজুড়ে দেখা রাত দশটা পর্যন্ত। আগুন লাগার পর প্রায় ৫০ জনের বেশি  রোগী আশ্রয় নিয়েছেন হাসপাতালের বারান্দা, মাঠ ও খোলা জায়গায়। ঘটনার পর  বেশ কিছু  রোগীকে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে  হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে এখানকার রোগীদেরকে সরিয়ে এনে তাদের এ্যাম্বুলেন্সে করে বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। সব রোগী নিরাপদে আছেন।’

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে সংসদ অধিবেশন থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ছুটে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুনে কারও হতাহতের খবর আমরা পাইনি। যত রোগী ছিল, তাদের সবাইকে বের করে আনা হয়েছে।’

ঢাকাটাইমস/১৪ফেব্রুয়ারি/ এসএস/আরকে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :