ক্রেতার চেয়ে বিপর্যয় সামলে ওঠার ব্যস্ততা বইমেলায়

আল আমিন রাজু
| আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৫ | প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:২১

বইমেলায় আজ ভিন্ন চিত্র। দর্শক-ক্রেতা সামলানোর বদলে স্টলে স্টলে প্রকাশক ও তার কর্মীরা ব্যস্ত বই শুকানো ও গোছানোতে। অবশ্য অন্য দিনের মতো ক্রেতা নেই আজ। মেলার নানা স্থানে কাদা। বিশেষ করে বাংলা একাডেমি চত্বরে বেশির ভাগ স্টলের সামনে কাদায় থকথকে। সোহরাওয়ার্দীর অনেক স্টলের সামনে জমেছিল পানি।

আজ ৫ ফাল্গুন। সময়টা বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর নয়। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোররাতে হয়ে গেছে অসময়ের বৃষ্টি আর দমকা বাতাস। তাতে বিপর‌্যয়ে পড়ে বাংলা একাডেমির একুশে গ্রন্থমেলা। অনেক স্টল লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে। হাজার হাজার বই ভিজেছে বিভিন্ন স্টলের।

প্রকাশনীর লোকজনের মাথায় হাত। চোখের সামনে পানিতে ভাসছে এক দিন আগে গুছিয়ে রেখে যাওয়া সদ্য প্রকাশিত বই। টেবিলে কিংবা সুদৃশ্য তাকে সাজিয়ে রাখা বই পানিতে ভিজে ফুলে উঠেছে।

সাধারণত রবিবারে দুপুরের পর মেলার গেট খুলে দেয়া হয় প্রকাশকদের জন্য। ভোরের বৃষ্টিতে শঙ্কিত প্রকাশকরা আজ সকালে ছুটে আসেন মেলায়। এরপর স্টলে স্টলে শুরু হয় বিপরর‌্যয় কাটানোর চেষ্টা। নির্মাণত্রুটি আর অসতর্কতার কারণে বেশির ভাগ স্টলের বই ভিজেছে বলে তাদের মত।

তবে জানা গেছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলা একাডেমি থেকে বারবার সতর্ক করার পরও অনেক প্রকাশনী তাদের স্টল বন্ধ করে যায়  নামমাত্র। স্টলের খোলা অংশ সাধারণ পলি ও তেরপল দিয়ে ঢেকে রাখা যায়, যা সামান্য বাতাসে তুলোর মতো উড়ে যায়।

কিছু প্রকাশকের দাবি, নির্মাণকাজে মিস্ত্রিদের অদক্ষতার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়ে যায়। আর তাতে বৃষ্টির পানি আটকে গিয়ে পরে স্টলের মধ্যে গড়িয়ে পড়ে।

বইমেলার বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ ঘুরে দেখা যায় ভিজে যাওয়া বই স্টলের সামনে রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন অনেকে। শুরুর এই ফাগুনে সূর্যের তেজও তেমন নেই। আকাশে ছিল হালকা মেঘের আনাগোনা। পড়ন্ত বিকেলেও অনেক স্টলের সামনে বই শুকানোর জন্য পাতা ছড়িয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা।

এক হাজারের বেশি বই ভিজেছে বাংলা প্রকাশ নামের একটি প্রকাশনীর। তাদের স্টলের সামনে গিয়ে দেখা যায় স্টলের কর্মীরা ভিজে যাওয়া বই রোদে মেলে দিচ্ছেন, কেউ শুকনো বই গোছাতে ব্যস্ত।

প্রকাশনীটির ম্যানেজার নুরুন্নবী ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘এক লাখ টাকার বেশি মূল্যের বই ভিজেছে আমাদের। স্টলে থাকা বেশির ভাগ বই ভিজে গেছে।’

তবে ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ প্রকাশক মনে করেন নির্মাণের সময় বড় স্টলগুলোর একপাশে ঢাল রাখা হয়েছে, ফলে বৃষ্টির পানির তোড় স্টলের ভিতরে চলে যায়। এ ছাড়া স্টল নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের জয়গাগুলো বন্ধ করে দেয়ায় পানি আটকে যায়।

বেশ কিছু স্টল বাতাসের দমকায় লন্ডভন্ড হয়ে যায়। অনেক স্টলের সামনে গিয়ে দেখা যায় ভেঙে যাওয়া স্টল মেরামতের চেষ্টা করছেন প্রকাশকের কর্মীরা। বেশির ভাগ স্টলের কর্মীরা বিক্রির চেয়ে বই গোছানোয় ব্যস্ত।

তবে যেসব স্টল পরিকল্পিত ও মজবুত করে বানানো, সেগুলো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তাদের বইও অক্ষত। মেলায় আসা দর্শক-ক্রেতারা সেসব স্টলে ঢুঁ মেরেছেন।

 (ঢাকাটাইমস/১৭ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :