ঢাবি থেকে ‘ল’ পাস করে প্রতারণা পেশায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ১৭:১৪ | প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৯, ১৭:১১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে আইন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে প্রতারণা পেশায় নেমেছিলেন মানিক চাঁদ ওরফে রাজ। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই প্রতারক। বিভিন্ন সময় নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ অফিসার বা সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা করতেন। ২০ জনের বেশি যুবক তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছে।

বিভিন্ন সময় এই প্রতারক চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে রাখাতেন। পরে সুবিধা মতো তাতে মোটা অংকের টাকার পরিমাণ বসিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের জালিয়াতি মামলায় ফাঁসাতেন। আইনের ছাত্র হওয়ায় তার ফাঁদ থেকে সহজে বেরোতে পারত না সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা।

রবিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর এবং খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন- মানিক চাঁদ ওরফে রাজ, রতন হোসেন, ইসমাইল হোসেন, এস এম আলাউদ্দিন আল মামুদ, শরিফুল ইসলাম ও সম্রাট মল্লিক। তাদের কাছ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকরিপ্রার্থীদের সিভি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার ব্যবহৃত ভুয়া সিলমোহর, সিল প্যাড, ডেস্কটপ জব্দ করা হয়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভনে গ্রামের সহজ সরল যুবকদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি। তারা ছয়ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের প্রতারণা চালাতো। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শিক্ষিত বেকার যুবক ও তাদের পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করত। বিশেষ করে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুষ্টিয়া এলাকায় তাদের কার্যক্রম বেশি ছিল। সেনাবাহিনী, পুলিশ, পেট্রোবাংলা, বিটিসিএল, পিডিবি, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নি¤œপদস্থ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাগজপত্র নেওয়া হতো। চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন অনলাইনে করা হয়েছে জানিয়ে ভুয়া ‘এডমিট কার্ড’ দেওয়া হতো।’

‘পরের ধাপে রাজধানীর অভিজাত হোটেলে এনে ঊর্ধ্বতন ভুয়া কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হতো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হতো। এসময় তাদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক, ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প, স্ট্যাম্পে চুক্তির স্বাক্ষর ও মূল সনদপত্র জমা রাখত।’

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, ‘ভাইভা নেওয়ার জন্য চক্রটি সরকারি অফিসের আদলে অফিস কক্ষ ভাড়া করেছিল এবং প্রশ্ন তৈরি করে ভুয়া মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করত। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাদের ভুয়া মেডিকেল টিম ছিল। যারা নিজেরাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত। মৌখিক ও মেডিকেল পরীক্ষার পর প্রতারকচক্র সরকারি লোগোযুক্ত গাড়ি নিয়ে অফিসের নিচে রাখত এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করত। মূলত গাড়ি দেখিয়ে তারা বিশ্বাস স্থাপন করাতো। চাকরিতে যোগদানের আগে প্রশিক্ষণ করতে তারা যখন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেত; তখন জানাতে পারত তাদের নিয়োগপত্রটি ভুয়া। তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। চক্রটি প্রতারণার পর আত্মগোপনে যেত না। বরং তাদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করতে গেলে আগে থেকে রেখে দেওয়া ব্ল্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প দিয়ে আদালতে প্রতারণার মামলা করত।’

প্রতারণার শিকার সোহাগ নামে একজন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘আমার ভাই পুলিশের চাকরির জন্য ওয়েটিং তালিকায় ছিল। কথা ছিল প্রতারক আলাউদ্দিন আল মামুন আমার ভাইয়ের চাকরির সব কাজ করে দেবেন পুলিশের আইজির মাধ্যমে। পরে দুই দিনের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এজন্য চেক ও স্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে রাখা হয়। আমার ভাইয়ের চাকরি না হওয়ায় সিরাজগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করা হয়। মামলায় প্রতারক আলাউদ্দিন আল মামুনের নামে ওয়ারেন্ট বের হলে উল্টো ঢাকা হাইকোর্ট থেকে আমার নামে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, তার ভাইকে বিদেশে পাঠানোর নামে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে চক্রের প্রধান মানিক চাঁদ পাবনা আদালতে আমার নামে তিনটা মামলা করে।’

(ঢাকাটাইমস/১৩মে/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :