জামায়াতকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বললেন ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৯, ১৯:৪৫

আবারো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বললেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এসময় তার পাশে জামায়াতের শীর্ষ নেতা মিয়া মোহাম্মাদ গোলাম পারোয়ার পাশে বসা ছিলেন।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ। ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘২০ দলের অন্যতম শরিক দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তারা যদি সত্যিকার অর্থে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়, তাহলে তাদের জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে। আজ তাদের পিতারা যে ভুল করেছেন তার জন্য বর্তমানে যারা আছে তাদের জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ হবে। কারণ তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারপাশে ‘র’ পরিবেষ্টিত। তাদের চিন্তা চেতনার কারণেই খালেদা জিয়া আজ জেলে। আর খালেদা জিয়াকে বের করে আনতে সামগ্রিক আন্দোলনের প্রয়োজন। সেই আন্দোলনের মূল ভূমিকা বিএনপিকেই রাখতে হবে। বিএনপিকে সব প্রকার ভুলত্রুটি ভুলে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে।’

খালেদা জিয়াকে আটক রেখে প্রধানমন্ত্রী ভুল করছেন- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মহাভুল করছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তারপর তিনি যখন গ্রেপ্তার হন তখন সেনানিবাসে আবদ্ধ ছিলেন। এরপর ধানমন্ডির বাড়িতে দুজনেই একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু আজ একজন বন্দি আর একজন বাইরে। আপনি আত্মরক্ষা করতে চান তাহলে আর দেরি না করে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করে দিন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আজ আপনি যে স্বপ্ন দেখছেন সেসব স্বপ্ন বিভিন্নভাবে ভুল হয়ে যাচ্ছে। একদিন আপনি বলেছেন দেশে চিকিৎসা নেবেন, কিন্তু আপনি দেশে চিকিৎসা নিতে পারেননি। কেন পারেননি? আজ আপনি উন্নয়নের কথা বলছেন, এদিকে কৃষক নিজেই ধান পুড়িয়ে ফেলছে।’

ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখে হওয়াটা ঐক্যফ্রন্টের ব্যর্থতা। আর কোনো সুযোগ নেই, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বিএনপি জোটকে শক্তিশালী করতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া সম্ভব নয়। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকাও সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদেরই সেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমি সেই দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, বিএনপিকে অনুরোধ করব, বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করব আপনারা নেতৃত্ব দেন, তা নাহলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিতে গিয়েও পারি নাই, এবার স্বৈরশাসকের হাতে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। বিএনপির যারা আছেন, আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কারা কারা আসবেন, আমাদের সঙ্গে আসেন।’

অলি বলেন, ‘এলডিপিকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আপনারা নতুনভাবে এটার নামকরণ করেন। আমার নেতৃত্বে আসতে হবে, এটাও নয়। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে, তার নেতৃত্বেও আমরা কাজ করতে প্রস্তুত; যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে জাতির কাছে। যে জাতির সঙ্গে বেইমানি করেনি, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যে কারও সাথে আপস করবে না, দুর্নীতির কাছে মাথা নত করবে না। তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

একই অনুষ্ঠানে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে ২০ দলের প্রধান সমন্বয়কারী কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম। এটা আমি নির্বাচনের আগে বলেছি, কিন্তু এটা লিখিত, পঠিতভাবে বলা হচ্ছে না।’

২০ দলীয় জোটের কার্যকারিতা নেই বলে দাবি করেন তিনি, ২০ দলীয় জোট এই মুহূর্তে কার্যকারিতার লেভেল থেকে নিচে আছে। এটাকে অ্যাফেক্টিভ করা হবে কি হবে না, জানি না। কবে হবে বা হবে না তার জন্য আমি বসে থাকতে পারব না।’

(ঢাকাটাইমস/১৫মে/বিইউ/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত