অভিযোগ পরিবারের

ঘুষ না পেয়ে লেদমিস্ত্রিকে ফাঁসালেন ওয়ারী থানার এসআই!

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ১৯:৫৯ | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৯, ১৮:০৮

টাকা না পেয়ে একজন লেদমিস্ত্রিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার ও ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনটি অভিযোগই তদন্ত করছেন ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নুরুল আমিন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রিয়াদ হোসেনের বড় ভাই ঢাকা টাইমস ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ-টিভির গাইবান্ধা প্রতিনিধি জাভেদ হোসেন গত ২১ মে পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগটি করেন।

পেশায় লেদমিস্ত্রি রিয়াদ হোসেনের ‘তিন বোন’ নামের একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে গাইবান্ধায়। গত ৯ মে তিনি মালামাল কিনতে ঢাকায় আসেন। পুরান ঢাকার জয়কালি মন্দিরের সামনে হোটেল ওসমানিয়ায় ওঠেন তিনি।

তিন পুলিশ কর্তাকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জাভেদ হোসেন বলেন, ‘গত ১৩ মে বিকালে তার (রিয়াদ) স্ত্রী ববি বেগমের সাথে ফোনে কথা হয়। এরপর তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন রাত নয়টার দিকে রিয়াদের মোবাইলে ফোন করলে ওয়ারী থানার পুলিশ ফোনটি রিসিভ করে জানায়, চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ওয়ারী থানায় আটক রাখা হয়েছে। পরদিন আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ববি বেগম আমাকে ফোনে বিস্তারিত ঘটনা জানান। পরে ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক রঞ্জিত আমাকে ফোন করে বলেন, ‘রিয়াদ আমাদের এখানে চুরির মামলায় আটক আছে। পরে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর ওয়ারী থানার দেলোয়ার নামের একজন কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে একই কথা জানান। ’

১৫ মে দুপুরে ঢাকার আদালতে গিয়ে জাভেদ জানতে পারেন, তার ভাইকে কোনো চুরির মামলায় নয়, এক হাজার ৯০৩ পুরিয়া হেরোইন দিয়ে ঢাকার ভাসমান মাদক ব্যবসায়ী দেখিয়ে মামলা করে আদালতে পাঠায় ওয়ারী থানার পুলিশ।

অভিযোগে জাভেদ উল্লেখ করেন, ‘পরে মামলার বাদি ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক রঞ্জিত সরকারকে ফোন করলে তিনি আমাকে বলেন, ‘আপনি তো আমাদের সাথে যোগাযোগ করলেন না, আমি কী করব? যদি যোগাযোগ করতেন তবে এটা হতো না।’ এরপর আমি ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমানকে ফোন করলে তিনি আমাকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে আমি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে জানালে তিনি আমাকে অভিযোগ করতে বলেন।’

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা ও ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ নূরুল আমিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। এটা বিভাগীয় বিষয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। ওনারা বিষয়টি দেখবেন।’

রিয়াদ হোসেনকে আটকের ঘটনার মীমাংসার জন্য তার বড় ভাই জাভেদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ওয়ারী থানার পুলিশ কর্মকর্তারা। কিন্তু তাতে কোনো সুরাহা হয়নি।

অভিযোগকারী জাভেদ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বৈঠকটি আয়োজন করেন ওয়ারী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রুবেল। ১২ জুন রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত পুলিশ ফাঁড়ির কাছে একটি বাড়িতে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান, অভিযুক্ত উপপরিদর্শক রঞ্জিত সরকার ও পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রুবেল। ওই বৈঠকে মীমাংসার প্রস্তাব দেন রুবেল।’

মীমাংসা প্রস্তাব সম্পর্কে জাবেদ হোসেন বলেন, ‘ওই প্রস্তাবে তারা আমাকে ঘটনাটি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের মাফ করে দিতে বলেন। তখন আমি ওই মিথ্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বললে তারা সেটি পারবেন না বলে জানান। তবে আমাকে মামলা চালানোর খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) হালকা করে দেওয়া এবং এই মামলায় যাতে সাজা না হয় তাও তারা দেখবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।’   

বৈঠকের বিষয়ে জানতে ওয়ারী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রুবেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রিয়াদ হোসেনকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তিনি (অভিযোগকারী) প্রতিকারের জন্য আইজিপির কাছে অভিযোগ করেছেন, করুক। তার যা করা প্রয়োজন তা-ই করুক। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে আপনি (এই প্রতিবেদক) থানায় আসুন। সব কথা তো আর ফোনে বলা যায় না।’

একইভাবে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জিত কুমার সরকার। তবে তার ফোনালাপের রেকর্ডের কথা জানালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমি জানি না, ভাই। আমি ছুটিতে রয়েছি।’

(ঢাকাটাইমস/২২জুন/এএ/মোআ) 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :