গণপিটুনি বন্ধে পুলিশের কড়া নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩৭ | প্রকাশিত : ২২ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৭

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। এ ধরনের হত্যা বন্ধে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে পুলিশের সব ইউনিটকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সদরদপ্তর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং ও মিডিয়ায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) সাঈদ তারিকুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইতিমধ্যে সব ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ছুটির পর ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের অভিভাবকদের মাধ্যমে স্কুল ত্যাগের বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন এবং সচল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ।

জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি এলাকায় ছেলেধরাসংক্রান্ত গুজবে কান না দিতে এবং পুলিশকে তাৎক্ষণিক জানানোর জন্য মাইকিং করা, লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিং করা।

এলাকার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সুধীসমাজ, কমিউনিটি  পুলিশিংয়ের প্রতিনিধি এবং জনসাধারণকে নিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ছেলেধরাসংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার কথা বলা হয়েঠে।
প্রতিটি মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ছেলেধরাসংক্রান্ত বিভ্রান্তি সৃষ্টি রোধে বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। মেট্রোপলিটন ও জেলা শহরে অবস্থিত বস্তি এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখতে বলেছে সদরদপ্তর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিটরিংসংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং মোবাইল ফোন) ছেলেধরাসংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ও পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে এবং ছেলেধরা বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোতে সার্বক্ষণিক তা প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ডিএমপি কমিশনার, এআইজি মিডিয়া এবং সব পুলিশ সুপার জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এর আগে ২০ জুলাই পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল এবং গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো ফৌজদারি অপরাধ। কাউকে ছেলেধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিতে আহ্বান জানানো হয়।

(ঢাকাটাইমস/২২জুলাই/এএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :