রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১১ বছরে সর্বনিম্ন : এনবিআর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩০ | প্রকাশিত : ৩১ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৫

২০০৮-০৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। দশ বছর পরে এসে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি একই হয়েছে।  

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে রাজস্ব আহরণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া একথা জানান। তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার ছিলো ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। আর এনবিআর এই সময়ে রাজস্ব আহরণ করেছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। যা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ১০.৭ শতাংশ।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ছিলো ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৮ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কেন রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি কমছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জাবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের আগে ডিসেম্বরে রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি ছিল। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠা কাছে বকেয়া পাওনা রায়েছে সাত থেকে আট হাজার কোটি টাকা। এছাড়া গত অর্থবছরের এলএনজিতে সব ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু খাতে যেমন গ্যাস, ইন্টারনেট, রপ্তানিমুখি গার্মেন্টস শিল্প, সোলার মডিউল, ট্রাভেল এজেন্ট, বেবী লোশন, হাওয়াই চপ্পল ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশে প্রায় ১৫ হাজার কোটিটাকার মত ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কাস্টমসের ক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতি, ব্যাগেজ রুলস, মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং, পোল্ট্রি রিলিফ গুডস, শিপ, বেজা ও কূটনৈতিক মিশনে প্রায় ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জাবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব সংগ্রহের প্রবৃদ্ধিতে কম হলেও টাকার অংকে কিন্তু সব চেয়ে বেশি আদায় হয়েছে।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন পাশ হয়েছে। জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইন বাস্তবায়ন হওয়ার ফলে ভ্যাট আদায় বাড়বে। এজন্য সব সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরের বড় ও মাঝারি সেবা প্রদানকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে  ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এরইমধ্যে দুই লাাখ ইএফডি কিনতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে এগুলো এসে যাবে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমাদের ৭ থেকে ১০ লাখ ইএফডি মেশিন কেনার পরিকল্পনা আছে।  আগামী অর্থবছরের আগেই পর্যায়ক্রমে এগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্টানে বসানো হবে। এক প্রশ্নের জাবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেনভ্যাট আইন বাস্তবায়নে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে না।

এনিবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে এনবিআর তৎপর হয়েছে। ফাঁকিবাজ ৩৪২ বন্ড প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকি রোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ১ কোটি নতুন করদাতা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে এনবিআর ৬ লাখ ৭২ হাজার নতুন করদাতাকে করনেটে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এজন্য ২১৩টি জরিপ টিম গঠন করা হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৫টি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাপ্ত জরিপের ভিত্তিতে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৭২ টিআইএন বরাদ্দ করে আয়কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে কর মামলা নিষ্পত্তি করে প্রায় ২৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার ১০৪ টাকা কর আহরণ করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ এনবিআরের মাধ্যমে আহরিত হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ কোটি টাকা এনবিআরকে আহরণ করতে হবে। যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। এনবিআর আশা করছে সবাইকে সাথে নিয়ে রাজস্ব আহরণে এনবিআর এগিয়ে যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে উৎসে কর ৫ শতাংশ কাটা হবে। ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে উৎসে কর কাটা হবে ১০ শতাংশ। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই এ হার কার্যকর হবে। সাংবাদিকের প্রশ্নের জাবাবে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যারা ১০ শতাংশ দিয়ে ফেলেছে তাদের টা পরবর্তিতে সমন্বয় করা হবে। সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে উৎসে কর ৫ শতাংশ কাটা হবে। 

ঢাকাটাইমস/ ৩১ জুলাই/ জেআর/আরএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :