কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসেসর আনল হুয়াওয়ে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৩:২৪

বিশ্বের  শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রসেসর অ্যাসসেন্ড ৯১০ এবং এআই কম্পিউটিং ফ্রেমওয়ার্ক মাইন্ডস্পোর বাজারে এনেছে। চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনজেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান এরিক ঝু সহ কোম্পানির উর্ধতন কর্মকর্তারা।

অ্যাসসেন্ড ৯১০ দা ভিঞ্চি সিস্টেম আর্কিটেকচারের উপর নির্মিত একটি এআই প্রসেসর এবং অসামান্য পারফরম্যান্স সত্ত্বেও, অ্যাসসেন্ড ৯১০ এর সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা ৩১০ ওয়াট, যা আগের পরিকল্পিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধারনাকৃত মাত্রার (৩৫০ওয়াট) চেয়ে অনেক কম।

এর আগে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনজেনে এই নতুন ওপেন-সোর্স এআই কম্পিউটিং ফ্রেমওয়ার্ক, মাইন্ডস্পোর চালু করে হুয়াওয়ে। মাইন্ডস্পোর এমন একটি এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো, যা সব ডিভাইস, এজ এবং ক্লাউড এনভাইরনমেন্টসহ সকল পরিস্থিতিতে এআই অ্যাপ্লিকেশনের বিকাশকে সমর্থন করে। এছাড়াও, বাজারে বিদ্যমান নেতৃস্থানীয় ফ্রেমওয়ার্কে ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) এর জন্য একটি সাধারণ নিউরাল নেটওয়ার্কে যে পরিমানে মূল কোড রয়েছে, সে তুলনায় মাইন্ডস্পোরের কোডের পরিমান ২০ শতাংশ কম। এর ফলে এটি ডেভেলপারদের কর্মদক্ষতাকে টওায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।  

অ্যাসসেন্ড ৯১০ প্রসেসর এআই মডেল ট্রেনিং ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এর একটি পরীক্ষা হিসেবে শুক্রবারের অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি ট্রেনিং সেশনের আয়োজন করা হলে সেখানে দেখা যায় যে, অ্যাসসেন্ড ৯১০ এবং মাইন্ডস্পোর সিস্টেমকে একত্রীকরণ করে এআই মডেল ট্রেনিং এর ক্ষেত্রে যে গতি পাওয়া যায়, তা টেনসরফ্লো এর গতির তুলনায় দ্বিগুণ গতি সম্পন্ন।

এ প্রসঙ্গে হুয়াওয়ের রোটাটিং চেয়ারম্যান এরিক ঝু বলেন, ‘‘অ্যাসসেন্ড ৯১০ আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভাল পারফর্ম করেছে। নিঃসন্দেহে, বিশ্বের অন্য এআই প্রসেসরের তুলনায় এর আরো বেশি কম্পিউটিং শক্তি রয়েছে।”

এআই অ্যাপ্লিকেশন বিকাশকে আরো সহজ, বিস্তৃত এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালে, হুয়াওয়ে এআই কাঠামোর উন্নয়নের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। লক্ষ্যগুলি ছিল সহজ বিকাশ, কার্যদক্ষতা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা। মাইন্ডস্পোর, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হুয়াওয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ। যেহেতু, প্রাইভেসি প্রোটেকশন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন তাই একটি নিরাপদ ও বিস্তৃত এআই ব্যবস্থাপনার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

বিংশ শতাব্দীর রেলরোড এবং বিদ্যুৎ এবং একবিংশ শতাব্দীর গাড়ি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মতই এআইকে শতাব্দীর একটি অন্যতম প্রযুক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে হুয়াওয়ে।  ঝু এর মতে, এআই এখনো বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সত্যিকারের সাধারণ প্রযুক্তিতিতে পরিণত করতে হলে এআই প্রযুক্তিতে বিদ্যমান ব্যবধানগুলি দূর করতে হবে। হুয়াওয়ের এআই স্ট্র্যাটেজিটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন, এই ব্যবধানগুলি দূর করার মাধ্যমে অতি দ্রুত বিশ্বে এই নতুন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়া যায়।

(ঢাকাটাইমস/২৫আগস্ট/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :