বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

অর্ধ কোটি আত্মসাতের পরও বহাল তারা

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
| আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৭ | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪১

চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রায় ৫৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন দুই প্রকৌশলী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তেই তাদের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। তারপরও এখনো বহাল প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম। এর আগে দুই দফা তদন্ত করে এই দুজনের সম্পৃক্ততা পায় বিএমডিএর তদন্ত কমিটি।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন নওগাঁর আত্রাই এবং জিএফএম হাসনুল ইসলাম রাজশাহীর মোহনপুরে বিএমডিএ কার্যালয়ে কর্মরত। বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-২ কার্যালয়ে সংগঠিত ওই চেক জালিয়াতির কাণ্ডে সহকারী হিসাবরক্ষক মতিউর রহমান ও সহকারী কোষাধ্যক্ষ খাবিরুদ্দিনও জড়িয়েছিলেন। এই দুজনসহ চারজনের নামেই মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই সুপারিশও বাস্তবায়নি করেনি বিএমডিএ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮১টি চেক টেম্পারিং করেছিলেন এই চারজন। ১৫৪ টাকার চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিল ৮৯ হাজার ১৫৪ টাকা। ৪৫০ টাকার চেক করা হয়েছিল এক লাখ ৪৫০ টাকা। আর মাত্র ৬২১ টাকার চেকে লেখা হয়েছিল এক লাখ ৬২১টাকা। এভাবেই ২০১১-২০১২ অর্থবছর হতে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৩২১ টাকা। তবে চেকের মুড়ির অংশগুলোতে ঠিকঠাক রয়েছে প্রকৃত টাকার অংক। জালিয়াতি ঢাকতে গোদাগাড়ী জোন-২ কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে নথিপত্র পড়িয়ে দেয় চক্রটি।

ঘটনা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে বিএমডিএ দুই দফা তদন্ত করে। পরে অধিকতর তদন্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৬৫৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জালিয়াতিতে এই চারজনের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। এরপর অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে কমিটিগুলো।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অভিযুক্ত খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু  অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে।

বিএমডিএর অডিট অফিসার বাসুদেব চন্দ্র মহন্ত জানিয়েছেন, চেক টেম্পারিংয়ের প্রমাণাদি ধ্বংস করতে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাটে বিএমডিএর কার্যালয়ে খাবিরুদ্দিন আগুন লাগিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে তিনটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই। প্রথম টেম্পারিং করেছিলেন মতিউর। এরপর খাবিরুদ্দিন।

অভিযুক্ত খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমান তদন্ত কমিটিগুলোর কাছে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, এর পেছনে  ছিলেন তৎকালীন দুই সহকারী প্রকৌশলীও।  এ বিষয়ে মতিউর বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে আমাকে শাস্তি দিয়ে এক রকম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর নিষ্পত্তি চাই। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছি।’

তার দাবি, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলীর নির্দেশেই তিনি এ কাজ করেছিলেন। তিনি সেই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। খাবিরুদ্দিনের দাবিও প্রায় একই।

তবে এধরণের ঘটনার পরও পিএফ ফান্ড থেকে খাবিরুদ্দিনকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে বিএমডিএ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও কীভাবে ঋণ পেলেন তা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অ্যাকশন নেয়া হয়নি। আর খাবিরুদ্দিন ঋণ বরখাস্ত হওয়ার আগেই ঋণের আবেদন করেছিলেন। তাই ঋণ পেয়েছেন।

ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/ব্যুরো/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :