‘আত্মতুষ্টি’র সঙ্গে বিদায় নিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:২৮
ফাইল ছবি

ঠিক চার বছর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ শফিউল আলম। সোমবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বললেন, ‘আমাদের ক্যাবিনেটের অনেকগুলো অর্জন আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজে খুবই স্যাটিসফাইড।’

কাজ করতে গিয়ে নিজের ভুলত্রুটি হলে সেজন্য নিজগুণে সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ করেন ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ হিসেবে যোগ দিতে যাওয়া শফিউল আলম। সহযোগিতা করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি। খুব স্বাচ্ছন্দ্য ফিল করেছি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে। আপনারা প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করেন, আমরা সরকারি কাজ করি, এ রকম কখনো মনে হয়নি। আমরা একসঙ্গে একই কলিগের মতো কাজ করেছি। সবাই মিলে কাজ করেছি। আপনাদের যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি আমরা।’

মঙ্গলবার থেকে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন তিনি। এজন্য আজই রওয়ানা করবেন ওয়াশিংটনে। তার পদে নতুন যোগ দিচ্ছেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

শেষ কর্মদিবসে গত চার বছরে দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রিপরিষদ এবং প্রশাসনে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এর উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এগুলো সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনে গতি আনতে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে আমার শেষ সেশন ছিল, তাই মন্ত্রিসভা আমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আজ ঠিক চার বছর পূর্ণ করলাম। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর শুরু করেছি, ২৮ অক্টোবর শেষ করলাম। সবার দোয়ায় আমি আজ ওয়াশিংটন যাচ্ছি। আজই ইনশাআল্লাহ রওনা দেব রাতে। আপনাদের সাথে একসঙ্গে কাজ করেছি, খুব স্বাচ্ছন্দ্য ফিল করেছি আপনাদের সাথে কাজ করতে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এরপরও আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, কোনো কিছুর ব্যত্যয় হয়ে থাকে, আপনারা নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকবেন।’

চার বছরে ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের ক্যাবিনেটের অনেকগুলো অর্জন আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজে খুবই স্যাটিসফাইড। আপনারা বুঝতে পারেন কি না জানি না। আমাদের অনেক বড় একটি পরিবর্তন হলো- আমরা দিনের কাজ দিনে শেষ করি। আজকে ক্যাবিনেট মিটিং আজকে প্রসিডিং সইটই হয়ে শেষ। অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করে চূড়ান্ত। যদি বেশি বড় হয় তবে হয়তো রাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠাই রাতেই তিনি সই করে দেন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ক্যাবিনেট মিটিং না, ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, অন্যান্য যে মন্ত্রিসভা কমিটিগুলো আছে সবগুলোতে আমরা এই নিয়মটা অনুসরণ করি। সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে সভাসহ আমাদের নিজস্ব যে মিটিং আছে সেগুলো একইভাবে করি। হয়তো আমরা ১০টায় মিটিং করলাম, ১২/১টার দিকে আমরা রেজুলেশন শেষ করে দিই। এই চর্চা আমরা অব্যাহত রেখেছি। এটাতে আমরা নিজেরা স্যাটিসফাইড (সন্তুষ্ট) যে, কাজটা শেষ করে দিলাম। পেন্ডিং থাকল না।’

(ঢাকাটাইমস/২৮অক্টোবর/বিইউ/জেবি)

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :