জাবির সংকটে স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেব না: শিক্ষা উপমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চলমান সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যলয়ের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই চলছে আন্দোলন। এর মধ্যে সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ারও নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে হলে অবস্থান করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থেকে সরবে না বলে জানিয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলন প্রসঙ্গে মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘জ্ঞান চর্চার স্থান বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে সবারই যৌক্তিক মত প্রকাশের সুযোগ আছে। যদি কারো অভিযোগ থাকে সেটি তদন্তসাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

উপমন্ত্রী বলেন, ‘এই আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগরে শিক্ষকদের মধ্যে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ বলছে দুর্নীতি হয়েছে। আরেক পক্ষ বলছে যেখানে অর্থই ছাড় হয়নি সেখানে কীভাবে দুর্নীতি হলো। এই দুই গ্রুপের মধ্যে তৃতীয় আরেকটি গ্রুপ সহিংসতা তৈরি করতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। কেউ অন্যায় করলে তাকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াটা আইনগত অধিকার। বিচারের আগেই তার ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।’

নওফেল বলেন, ‘তাদের মধ্যে এক পক্ষ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৮ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এর আগেই এক ধরনের অস্থির পরিস্থিত সৃষ্টি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। একইভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়ন কাজ।’

জাবির এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা চাইলেই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ দিলে আমরা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারি।’

ছাত্রলীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের একটি ঐতিহ্য আছে। কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রলীগকে দোষী সাব্যস্ত করে থাকে। তবে ছাত্রলীগের পদে থেকে কেউ যদি সহিংসতার সাথে জড়িত থাকে তাদের অপসারণ করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/০৬নভেম্বর/টিএ/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :