পদত্যাগের লাইনে বিএনপির আরও কজন শীর্ষ নেতা

বোরহান উদ্দিন
 | প্রকাশিত : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:২৪

একটানা এক যুগের বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি মাঠের কর্মসূচিতেও অনেকটা নিষ্ক্রিয়। দুর্নীতির মামলায় দ-িত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনেও ছাপ রাখতে পারেননি বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আবার বয়সের দোহাই দিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরে গেছেন কয়েকজন নেতা। তার মধ্যে সম্প্রতি শীর্ষ দুই নেতার পদত্যাগের পর গুঞ্জন উঠেছে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আরও কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন। একে একে শীর্ষ নেতারা পদত্যাগী হলে তা বিএনপির জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এ ব্যাপারে তেমন ভাবিত নন বিএনপির হাইকমান্ড।

দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তি বা সরকার পতনের আন্দোলনÑ কোনো কিছুতেই এখন সক্রিয় নেই বিএনপি। ঘরোয়া কর্মসূচিতে সময় পার করছেন শীর্ষ নেতারা। দলের কাউন্সিলের পর থেকে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপি ছেড়েছেন। সবশেষ বিএনপি ছাড়লেন সাবেক সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান।

তবে এদের চলে যাওয়াকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপির হাইকমান্ড। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাদের পথ ধরতে পারেন আরো কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। ইতিমধ্যে কয়েকজনের নামও গণমাধ্যমে এসেছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করতে গুঞ্জনের তালিকায় থাকা নেতারা বৈঠকও করেছেন। তবে এ নিয়ে কেউ এখনই মুখ খুলছেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির জন্য নেতাদের দল ছাড়ার ঘটনা কিছুটা হলেও সংকট তৈরী করবে। কারণ এটা আরো লম্বা হলে তৃনমূলেও প্রভাব পড়বে। আর দলের দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতির কারণে এটা মোকাবেলা করাও কষ্টসাধ্য হবে।

২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী দল থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিএনপি এখন অনেকটাই দূরে। রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না জানালেও গত নির্বাচনের আগে বিকল্প ধারায় যোগ দেন তিনি।

এরপর ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার দিনই পদত্যাগ করেন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী। সাবেক এমপি পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাসেমও বিএনপি ছাড়েন ২০১৬সালের ডিসেম্বরে।

এবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরীরাও দল ছাড়তে পারেন। তাদের সঙ্গে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা ও সাবেক এমপি গত শুক্রবার রাতে গুলশানে আলতাফ হোসেনের বাসায় বৈঠকে করেছেন। সেখানে পদত্যাগী মাহবুবুর রহমানও ছিলেন। তবে যাওয়ার কথা থাকলেও আবদুল্লাহ আল নোমান শারীরিক অসুস্থতার কারণে থাকতে পারেনি বলে জানা গেছে।

দলের একাংশকে নিয়ে এসব নেতারা নতুন কোনো প্লাটফর্ম তৈরী করার চেষ্টা করছেন এমন গুঞ্জনও হচ্ছে। তবে বৈঠক নিয়ে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। যদিও শাহজাহান ওমর ঢাকা টাইমসের কাছে দল ছাড়ার খবরকে গুজব বলে দাবি করেছেন।

ফালু ছাড়া বাকি নেতারা দল ছাড়ার জন্য বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করেছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়েও কেউ কেউ কথা বলেছেন। তবে বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ নাকোচ করে বলছেন, যারা চলে গেছেন তারা সুবিধাবাদী। এদের নিয়ে তারা বিচলিত নন।

এসব নেতাদের কড়া সমালোচনাও করছেন কেউ কেউ। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পদত্যাগী নেতাদের কবে, কোথাও কেউ দেখেছে? রাজপথে কিংবা ফুটপাতে কোথাও দেখিনি। তাই এ নিয়ে ভাবনার কিছু আছে বলে মনে করি।’

মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে টেলিফোন করলে তার স্ত্রী রিসিভ করেন। পরে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে কথা সম্ভব না বলে ফোন রেখে দেন।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের করণীয় ঠিক করতে শিগগির বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যারা দল ছেড়েছে তাদের থাকা, না থাকা একই। এ কারণে এটা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু যা অর্জন করেছেন জীবনে এর পেছনে অবদান পুরোটা বিএনপির। কিন্তু দলীয় প্রধান যখন ঐক্য ধরে রাখার কথা বলছেন তখন এমন চলে যাওয়াটা রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা।’

গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পদত্যাগীদের সুসময়ের নেতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, ‘দলের সুসময়ে বিভিন্ন মানুষকে এমপি-মন্ত্রী হওয়া দেখেছি। তারা আন্দোলন সংগ্রাম করে বর্ণাঢ্য জীবন লাভ করেন নাই। দেশের এমন পরিস্থিতিতে তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তাই তাদের চলে যাওয়া নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই।’

বিষয়টি নিয়ে কথা দলের চিন্তাভাবনার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যারা চলে গেছেন তারা অনেকদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণেই মূলত রাজনীতি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এতে দলে প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না।’

তবে তার সঙ্গে দ্বিতম প্রকাশ করেছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিএনপির এখনো হুশ না ফিরলে প্রতিদান দিতে হবে। দলের কাউন্সিল করে গতি আনা উচিত। তারেক রহমানের দেশে আসতে হবে। অন্যথায় ক্ষোভ-দুরত্ব বাড়তে থাকবে।’

(ঢাকাটাইমস/১২নভেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :