ফরিদপুরে পেঁয়াজের দর মণপ্রতি কমেছে দুই হাজার টাকা

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:২১

ফরিদপুরের এক দিনে পেঁয়াজের দর নেমেছে মণপ্রতি দুই হাজার টাকা।  জেলার দুই উপজেলায় কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য মিলেছে। পেঁয়াজের লাগামহীন দাম কমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে স্বস্তি।

রবিবার জেলার বোয়ালমারীর চিতার বাজার, ময়েনদিয়া বাজার, জয়পাশার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চাষিরা তাদের আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে হাজির হন। এসময় ক্রেতারা ওই পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নাছিম আহমেদ কবির জানান, চিতার বাজারের আমি দুই মণ পেয়াজ নিয়ে যাই। কিন্তু দেখি হঠাৎ করে দর পড়ে গেছে। পরে বাধ্য হয়ে সাত হাজার টাকা মণে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করি।

এই এলাকার পেঁয়াজের বড় চাষি শামিম মোল্লা বলেন, ‘মৌসুমের সময়ে হাজার মণ পেঁয়ার সংগ্রহ করেছিলাম, প্রথম দিকে বেশি অংশ কম দামে বিক্রয় করেছি, সম্প্রতি দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বাকি পেঁয়াজ বিক্রয় করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ রবিবার থেকে এই বাজারে পেঁয়াজের দর মণপ্রতি দুই হাজার টাকা কমে গেছে।’

চিতার বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি মওলা বিশ্বাস জানান, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গত দুই দিন ধরে সেই দর নেমে আসায় পেঁয়াজ বাজার স্থিতিশীল হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে জেলার সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া, বালিয়াগট্টি বাজারের পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। সেসব বাজারে দেখা গেছে, পুরানো পেঁয়াজ সর্বোচ্চ মণপ্রতি বিক্রয় হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার টাকায়। অন্যদিকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজার মূল্য রয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানান, এই জেলার নয় উপজেলায় মৌসুমে চার লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের উৎপাদন হয়। চলতি শীত মৌসুমের আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়াও জেলায় তিন জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়, এর মধ্যে রয়েছে- হালি পেঁয়াজ (চারা থেকে উৎপাদন হয়), দানা পেঁয়াজ (বীজ থেকে উৎপাদন হয়) এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ (গুঁটি থেকে উৎপাদন হয়)।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, চলতি শীত মৌসুমে ফরিদপুরে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে।

তিনি জানান, যেসব চাষি আগে পেঁয়াজ রোপন করেছিল তারা এখন তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারের অনতে শুরু করেছে। এতে পেঁয়াজ বাজার কিছুটা হলে নিম্নমুখী।

এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনেক চাষি তাদের আগাম জাতের পেঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, জেলায় যেসব মাঠে পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়- সেসব মাঠে শনিবার বিকালে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।

তিনি জানান, চাষিরা বলেছে- ‘অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঘরে তুলতে পারবে তাদের পেঁয়াজ।’ এতে করে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন এই জেলা প্রশাসক।

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম মোল্লা জানান, শনিবার থেকে এ বাজারে পুরান পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রয় হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে এবং নতুন হালি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রয় হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।

(ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :