ছোট দলে বড় দ্বন্দ্ব-৩

প্রধানের মৃত্যুর পর অস্তিত্ব সংকটে জাগপা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২০ | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৭
জাগপার বর্ধিত সভা (ফাইল ছবি)

ছোট দলটির নাম জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা)। দলের কর্তা ছিলেন শফিউল আলম প্রধান। তার একক পরিচয়েই রাজনৈতিক অঙ্গণে চার দশক পর্যন্ত সক্রিয় ছিল দলটি। তবে প্রধানের মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে অনেকটা পা থমকে গিয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে জাগপা।

প্রধানের মৃত্যুতে দলের হাল ধরেছিলেন প্রধানের স্ত্রী রেহানা প্রধান। এক বছরের মাথায় মায়ের মৃত্যুতে হাল ধরেন প্রধানকন্যা তাসমিয়া প্রধান। তবে সম্প্রতি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান। আর মহাসচিব লুৎফরকে বহিষ্কার করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ছোট দলটির বড় দ্বন্ধই ফুটে উঠেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনবন্টন নিয়ে ২০ দলের সঙ্গে  ক্ষোভ, কর্ণেল (অব.) অলি আহমদের গঠিত ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চে’ যোগদান ইস্যুতে সভাপতি-মহাসচিব একে অপরকে বহিষ্কার করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর এই দুই নেতা নিজেদের আসল ‘জাগপা’ দাবি করে পৃথক দুইভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া ২০ দল থেকেও ছিটকে গেছেন প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া। অন্যদিকে বিএনপির আনুকূল্য পেয়ে জোটের সঙ্গে আছেন লুৎফর রহমান।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি শরিক দলের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘হঠাৎ করে অলি আহমদের মুক্তি মঞ্চের কারণে ২০দলের ছোট দলগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল জাগপার প্রতিষ্ঠা করেন। চার দশক ধরে সেই দল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন শফিউল আলম প্রধান। মূলত বিএনপি জোট ঘিরেই চলে আসছিল তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

২০১৭ সালে প্রধানের মৃত্যুর পর স্ত্রী রেহানা প্রধান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে এক বছর পর তিনিও মারা গেলে মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তরুণ আইনজীবী এবং প্রধানের মেয়ে হওয়ায় দলের অন্য নেতারা তাকে বেশ মান্য করেই চলছিলেন। তবে হঠাৎ করে অলি আহমদের জাতীয় মুক্তি মঞ্চে তার যোগ দেয়াকে ভালোভাবে নিতে পারেননি জাগপা মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান। এক পর্যায়ে বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চান তিনি। এতে চটে যান তাসমিয়া।

লুৎফর রহমানের দাবি, শফিউল আলম প্রধানের প্রদর্শিত পথের বাইরে জাগপার নতুন কোনো পথ নেই। তাই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে নতুন কোনো প্লাটফর্মে জাগপা অংশ নিতে পারে না।

এই ঘটনার পর দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে প্রথমে বহিষ্কার করা হয় খন্দকার লুৎফর রহমানকে। পরে সেটা প্রত্যাহারও করে নেয়া হয়। এরইমধ্যে হঠাৎ করে গত ৪ সেপ্টেম্বর লুৎফর রহমানকে সরিয়ে যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুর রহমান খান আসাদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব  দেন তাসমিয়া প্রধান। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হন লুৎফর।

ঢাকা টাইমসকে লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত ২৭ জুন দলের সভাপতি তাসমিয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে জাতীয় মুক্তি মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এ বিষয়ে আমি এক বিবৃতিতে তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে বহিষ্কার করা হয়। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।’

লুৎফর রহমানকে সরিয়ে আসাদুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, জাপগা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান আসাদ গেট দলীয় কার্যালয়ে জাগপার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ও গঠনতন্ত্রের ১৫ (খ) ধারা মোতাবেক জাগপা কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খানকে জাগপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এরপর দলীয় সভাপতি ও নতুন সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দেয় লুৎফর রহমানের গ্রুপ। দলের ও জোটের ঐক্যবিরোধী অবস্থান গ্রহণ এবং গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে তাসমিয়া প্রধান ও আসাদুর রহমান খানকে অব্যাহতি দিয়ে জাগপা সহ-সভাপতি খন্দকার আবিদুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। একইসঙ্গে নিজে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকেন লুৎফর রহমান।

খন্দকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করে নতুন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনোনয়নের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়  তাদের দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন আমরাই জাগপার প্রকৃত অংশীদার।’

তবে লুৎফরের এসব বক্তব্যের বিপরীতে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করলেও তাসমিয়া প্রধানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে জাপগা নেতা আসাদুর রহমান খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে দলের সভাপতি করা হয়। তার মৃত্যুর পর তাসমিয়া প্রধানকে সবার সম্মতিতে সভাপতি করা হয়।’

‘কিন্তু একটা চক্র দলের মধ্যে ভাঙন ধরাতে ষড়যন্ত্র করছে। গুটি কয়েক লোকজন নিয়ে নিজেদের স্বঘোষিত নেতা দাবি করছেন। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। নেতাকর্মীরা সবাই আমাদের সঙ্গে আছি।’

(ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :