ঢামেক হাসপাতালে ময়লা ফেলতে জুড়ি নেই কারও

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৬ | প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:১৭

যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার সমস্ত নিয়মকে ছাড়িয়ে গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতালটির এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ময়লা চোখে পড়ে না। ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে শুরু করে এমনকি চিকিৎসকদের কক্ষগুলোর পাশেও জমে আছে ময়লার স্তূপ। নির্বিচারে এভাবে ময়লা ফেলায় কর্তৃপক্ষেরও নেই কোনো নজরদারি। এমন অবস্থায় দেশের অন্যতম প্রধান এই চিকিৎসালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল চারটা পর্ডন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বেশ কয়েকটি ফ্লোরে সরেজমিনে এ প্রতিবেদক যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখতে পায়। বিশেষ করে চার তলার  উত্তরপাশের বারান্দায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এই ফ্লোরের ৪২৪ নম্বর রুমের সামনে থাকা লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রোগীদের লোকজন ওপরে থেকে ময়লা ফেলেন। কিন্তু দিনের পর দিন পরিষ্কার না করার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। তবে ওই ফ্লোরের কিংবা কোনো কক্ষে দায়িত্বশীল কোনো চিকিৎসককে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়ার সুযোগ হয়নি।

ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন ভবনের সংযোগ ব্রিজ দিয়ে নতুন ভবনের যাওয়ার পথেও ময়লার ছড়াছড়ি। তবে সেখানে কারা ময়লা ফেলে সে বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরতরা কেউ কিছু বলতে পারেননি।

পুরাতন ভবনের নাক, কান ও গলা বিভাগের পেছনের বারান্দাতেও একই চিত্র। এখানে বেশ কিছু ময়লা পরিষ্কারের জন্য স্তূপাকারে রাখা। দেখে মনে হলো তিন-চার দিন ধরেই সেখানে এভাবে ময়লাগুলো পড়ে রয়েছে। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বিভিন্ন ফ্লোর থেকে ময়লা এনে এখানে রাখা হয়েছে। তবে তা সরানোর উদ্যোগ নেই।

নতুন ভবনের চার তলায় বসেন নেফ্রোলজি ও নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা। তবে তারা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের এমন অভিযোগ মানতে রাজি নন। চিকিৎসকদের কেউ এভাবে ময়লা ফেলেন না বলেও ভাষ্য তাদের।

হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ডেঙ্গুর মৌসুমে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রায় ২০০ পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দেয়। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরসহ বিভিন্ন জায়গার ময়লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখতেন। তবে এদের অনেকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় লোকবল কমে গেছে। ফলে আবারও অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ময়লা দেখা গেছে, নতুন ভবনের চার তলার বারান্দায়। তবে কারা এসব ময়লা ফেলেছে দায় নিতে রাজি নয় কেউ। কারা কখন ময়লা ফেলে যায় সেটাও হাসপাতালের কারও জানা নেই। সেখানে নিয়োজিত একাধিক কর্মচারী জানান, এই ফ্লোরের উত্তর পাশে চিকিৎসকদের কক্ষ। তার পাশেই বারান্দাটি। তাই সেখানে চিকিৎসকরা ছাড়া আর কেউ যায়ও না। যে কারণে ওই জায়গায় অন্য কারও পক্ষে ময়লা ফেলাও সম্ভব নয়।

কয়েকজন কর্মী দাবি করেন, চিকিৎসকরাই খাবার খেয়ে খাবারের অংশ বিশেষ কিংবা উচ্ছিষ্ট সেখানে ফেলেন। অথচ ময়লা ফেলতে নির্দিষ্ট করে বসানো হয়েছে একাধিক বিন। সরেজমিনে সেসব বিনের অধিকাংশই খালি দেখা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলায় বসেন নেফ্রোলজি ও নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক। তারা হাসপাতালের কর্মীদের এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, ওপর থেকে অন্য লোকজন ময়লা ফেলে। আর সেটা নজরদারি করার দায়িত্বও হাসপাতালের কর্মীদের।

নিরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ হোসেন চৌধুরী হারুন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা ফেলে রোগীর স্বজনেরা। তারা ওপর থেকে জানালা খুলে ময়লা ছুড়ে ফেলে।’

ময়লা পরিষ্কারের বিষয়ে হাসাতালের কর্মীদের বললেও কাজ হয় না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা ঠিক মতো কাজ করতে চায় না। আর বিশেষভাবে যেসকল পরিচ্ছন্নকর্মী নেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য, তাদের মেয়াদও শেষ, ফলে এই অবস্থা হয়েছে।’

বারান্দায় জমে থাকা ময়লার স্তূপ ওপর থেকে ফেলা হয় দাবি করে নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ওপর থেকে ময়লা ফেলা হয়। আমরা কেন ময়লা রাখতে যাব? হাসপাতালের কিছু লোক রয়েছে ময়লা পরিষ্কার করা জন্য। তারা কমবেশি পরিষ্কার করছেন।’

‘তারপরও কারা যেন ওপর থেকে ময়লা ফেলছে। এটা হাসপাতালের পরিচালক দেখবেন। তিনি চেষ্টাও করছেন। তবে সবার সম্মিলিত চেষ্টা না থাকলে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা কতোটা সম্ভব।’

এসব বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা সবসময় হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তবে মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে আমাদের পক্ষে আর কী করা সম্ভব?’

তার ভাষ্য হাসপাতালে রোগী বা তাদের স্বজনরা ওপর থেকে ময়লা ফেলেন। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সবাই যার যার জায়গা থেকে সচেতন হলে হাসপাতালের এমন চিত্র থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালটা আমাদের সকলের সম্পদ। তাই আমাদের সবারই দায়িত্ব সেটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।’

(ঢাকাটাইমস/০১ডিসেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :