জাবি উপাচার্যের ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ প্রকাশ

জাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:১৭

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ প্রকাশ করেছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ২২৪ পৃষ্ঠার এ খতিয়ানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে বিভিন্ন ‘অনিয়ম’ ও উপাচার্যের ‘স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের’ তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটায় নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে বই আকারে এ খতিয়ান প্রকাশ করা হয়।

আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির তদন্তে দীর্ঘসূত্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে করেছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব তদন্তের ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কলঙ্কমুক্ত’ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলঅ হয়, ‘আমাদের আন্দোলনের বর্তমান এক দফা কর্মসূচি হলো দুর্নীতিগ্রস্ত উপাচার্যের অপসারণ। জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ, সে ব্যাপারে উপাচার্যের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা, ছাত্রলীগের একাধিক নেতার স্বীকারোক্তি, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দুর্নীতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার কলঙ্ক যেই ব্যক্তির, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কোনো অধিকার নেই তার।‘

আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলন উপাচার্য পতনের আন্দোলন নয়। ব্যক্তি ফারজানা ইসলামের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন।

দুর্নীতির খতিয়ান বইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সাতটি রূপরেখা তুলে ধরে তা আন্দোলনের ইশতেহার হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। রূপরেখাগুলো হলো- ১. বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সব প্রশাসনিক, একাডেমিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক হিসাব জনপরিসরে প্রকাশ করতে হবে; ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, সংশোধন এবং যেকোনো অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব অংশীজনের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অচলাবস্থা সৃষ্টি না হলে উপাচার্য তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না; ৪. উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হবে না; ৫. ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে সিনেট পূর্ণাঙ্গ করতে হবে; ৬. পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ৭. সব বাণিজ্যিক কোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনার বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারেক রেজা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান প্রমুখ।

এদিকে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে কাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে গত ৫ নভেম্বরে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার স্থিরচিত্র প্রদর্শন ও গণসংযোগ করা হবে। আর উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অসংগতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে বলে জানান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিক উস সালেহীন।

(ঢাকাটাইমস/১০ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :