ঢেঁড়স খেলে দূরে থাকে ডায়াবেটিস

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০৭ | প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০২

সবার কাছে পরিচিত একটি সবজি ঢেঁড়স। ঢেঁড়শ গাছ একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। ঢেঁড়সের বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাবেলমোছাস এসসিউলেনটাস। ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ঠাসা। ঢেঁড়সের মধ্যে রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। এ সবজি ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও লোহাসমৃদ্ধ।

ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। যা ডায়াবেটিসকে দূরে রাখে। এই সব্জির গ্লাইসেমিক সূচক কম। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ‘আমেরিকান ডায়াবিটিস অ্যাসোসিয়েশন’-এর মত অনুযায়ী, হাই ক্যালোরি, লো ফ্যাটের এই সব্জি ডায়াবেটিসদের জন্য খুবই উপকারী।

আমাদের দেশ সারা বিশ্বের মধ্যে ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, প্রতি বছর নতুন করে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণা বলছে প্রতিদিন ৬-৮ টা ঢেঁড়স খেলে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে।

অনেকে ডায়াবেটিস নিয়ে ভয়ে থাকেন। নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে ডায়াবেটিস নিয়ে ভয়ে থাকতে হবে না। কারণ এর ভেতরে এমনকিছু উপাদান রয়েছে যা ডায়াবেটিসকে দূরে সরিয়ে আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। শুধু তাই নয় খুব কম ফ্যাট থাকায় ওজন কমানোর ডায়াটে ঢেঁড়স সবজি রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন মানুষের শরীরের সুগার লেভেল যখন বাড়ে সেই সময়ে ঢেঁড়সের বীজ খাওয়ার পর অবিশ্বাস্যভাবে সুগারের মাত্রা কমে যায়। কারণ ১০০ গ্ৰাম ঢেঁড়সের মধ্যে ক্যালোরির পরিমাণ মাত্র ৩৩। এই কারণেই এই খাবারকে অ্যান্টি ডায়াবেটিক খাবার বলা হয়ে থাকে।

সাধারণত খাওয়া দাওয়ার মানুষের রক্তে সুগারের পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু ঢেঁড়স খেলে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, যারা ডায়াবেটিসের আগের স্টেজ আছেন বা ডায়াবেটিস রোগে সবেমাত্র আক্রান্ত তারা কিন্তু ঢেঁড়স খেয়ে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

দুশ্চিন্তার আধিক্যের জন্য ডায়াবেটিস রোগ চেপে বসে। এমনকি স্ট্রেস থেকে রক্তে সুগারের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই দুশ্চিন্তা ও অত্যাধিক মানসিক চাপ থেক রেহাই একান্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞ দের মতে এক্ষেত্রেও ঢেঁড়সের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। ঢেঁড়সে আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে কমাতে সাহায্য করে। এই স্ট্রেস কমলে আমাদের রক্তে সুগারের মাত্রা সহজে ওঠানামা করতে পারে না।

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। হার্টের রোগের সমস্যা ও ডায়াবেটিস মিলে বড় সর্বনাশ করতে পারে যেকোনো রোগীর। তাই সুগারের মাত্রা ঠিক রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ। ঢেঁড়সে কোনোরকম স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থাকে না। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টই কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

ঢেঁড়সের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাজের শরীরের ক্লান্তি দূর করে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কাজের শক্তি আনতে ক্লান্তি দূর করা একান্ত প্রয়োজন। আর তার সমাধান লুকিয়ে ঢেঁড়সে। এটি ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি কার্ডিও ভাসকুলার ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে যা শরীরকে সচল ও সতেজ রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজন।

ঢেঁড়সে আছে প্রচুর ডায়েটরি ফাইবার। এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ডায়েটরি ফাইবার ক্ষুধা মেটানো ও খাবার ঠিক ঠাক হজম করাতে সাহায্য করে।

ঢেঁড়স রান্না করে খাওয়ার পাশা পাশি কেটে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই পানিও খাওয়া যায়। এতে ঢেঁড়সের সব গুণই থাকে। তবে না ধুয়ে ঢেঁড়স কখনোই খাবেন না।

ঢেঁড়সের ভেতর রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন এ, সি এবং ফলেট। সেই সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন কে, বি, আয়রন, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, মেঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিটা ক্যারোটিন। সবকটি উপাদান একযোগে ডায়াবেটিস, অ্যাস্থেমা, অ্যানিমিয়া, ক্যানসারসহ একাধিক রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ঢেঁড়স কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র ০.১৯ গ্রাম। শুধু কম ফ্যাট বলেই নয়, ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে থেকে মেলে অনেকটা ক্যালোরিও। তাই ‘লো ফ্যাট ডায়েট’-এ ঢেঁড়সের বিশেষ ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণই নয়, এই সব্জি খাওয়ার উপযোগীতা আরও অনেক। কেন খাবার পাতে এই সব্জি রাখতে হবে জানেন? দেখে নিন তার বিশেষ কয়েকটি কারণ। ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর ফাইভার। ফাইবারের প্রাচুর্য দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখে। সহজে খিদে পায় না। এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত গতিতে বাড়িয়ে তোলে না। এই সব্জির আরেকটি বৈশিষ্ট্য— এটি হজম ক্ষমতা বাড়ায়। পাকস্থলির সুস্থতা বাড়াতেও এটি খুব কার্যকর।

ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমানে আয়োডিন, ভিটামিন এ ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ বিদ্যমান রয়েছে। ঢেঁড়স নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং এটা হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন রয়েছে।

ঢেঁড়সে রিবোফ্লাবিনের পরিমাণ বেগুন, মুলা ও টমেটোর চেয়ে বেশি আছে। এটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পেটের প্রস্রাব ও পায়খানা পরিষ্কার করতে ঢেঁড়শের অনেক গুণ । খুসখুসে কাশিতেও উপকার করে এই সবজিটি। হজমশক্তি বাড়ায়, বাতের প্রকোপ কমায়। ডায়বেটিসের জন্য অনেক উপকারী। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের ক্ষরণ দূর করে এই ঢেঁড়স।

(ঢাকাটাইমস/২৯ সেপ্টেম্বর/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :