সয়াবিন খেলে হার্ট ভালো থাকে

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩১

উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সব চেয়ে সেরা উপাদানগুলোর অন্যতম সয়াবিন। সয়াবিন পৃথিবীর একটি অন্যতম প্রধান ফসল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে চীনে উদ্ভূত হয়েছে। এটা তারপর ধীরে ধীরে জাপান এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে, সয়াবিন সব জায়গায় চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সয়াবিন ফসল হিসেবে এখনও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি কিন্তু সয়াবিন তেল ভোজ্যতেল হিসেবে খুবই জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে সয়াবিন তেল সবটাই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। কোন কোন সময় অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিদেশ থেকে নিয়ে এসে এখানে পরিশোধিত করে বাজারজাত করা হয়।

সয়াবিন ভোজ্য বীজ যা শুঁটি জাতির অন্তর্গত। যার বৈজ্ঞানিক নাম গ্লিসাইন ম্যাক্স। সয়াবিন গাছে এগুলো উৎপন্ন হয় যার ক্ষুদ্র আবরণ (খোসা) আছে যার মধ্যে এই বীজগুলো থাকে। এই বীজগুলো আকারে গোলাকার এবং যখন কাঁচা থাকে সেগুলোর রং সবুজ এবং যখন সেগুলো শুকিয়ে যায় তখন হলুদ এবং বাদামী রঙে পরিবর্তিত হয়।

ভিটামিন ও প্রোটিনে ভরপুর এই খাবার আদতে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। আজকাল ডায়াবেটিকদেরও নিশ্চিন্তে সয়াবিন খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আসলে এক বাটি ডালের চেয়েও বেশি প্রোটিন রয়েছে এক বাটি সয়াবিনে। যে কোনও প্রাণিজ প্রোটিনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে সয়াবিন। তাই নিরামিষাশীদের ডায়েটে এই খাদ্য রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সয়াবিন নানা রকমের সয়া-ভিত্তিক খাবার যেমন সয়া দুধ এবং টোফু তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটা বিভিন্ন মাংস এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের পরিবর্ত হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। এশিয়ার দেশগুলোতে, গাঁজানো খাবারগুলোর প্রধান উপাদান হিসাবে সয়াবিন ব্যবহৃত হয় যেমন সয়া সস, টেম্পে, গাঁজানো বিনের মণ্ড, এবং মিসো। সয়াবিন তেল নিষ্কাশন করার জন্যও সয়াবিন ব্যবহার করা যেতে পারে। একবার, সয়াবিন তেল যদি নিষ্কাশিত হয়, অবশিষ্ট অংশ যাকে সয়াবিন খাবার বলা হয়, অত্যন্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ, সয়া প্রোটিন উৎপাদন করতে অথবা পশুদের একটা খাবার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

সয়াবিন বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ এবং প্রোটিনে অতিশয় পুষ্টিকর। সয়াবিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে, ওজন কমাতে এবং হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ক্যানসার রোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সয়াবিন ঘুমের গোলমাল রোধ করতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতেও ব্যবহৃত হতে পারে। সয়াবিন কাঁচা বা রান্নাছাড়া অবস্থায় খেলে বিষাক্ত হয়। অতএব খাবার আগে এটা অবশ্যই যথাযথভাবে রান্না করতে হবে।

ভিটামিন এবং নানা রকমের প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ সয়াবিন। প্রোটিন, দুগ্ধজাত ফাইবারের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। সয়াবিনের মধ্যে নানারকম ভিটামিন যেমন, ভিটামিন কে, রাইবোফ্ল্যাবিন, ফোলেট, ভিটামিন বি৬, থাইয়ামিন এবং ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে। এছাড়াও, খনিজ উপাদানও বজায় থাকে সয়াবিনের মধ্যে। একইসঙ্গে, আইরন,ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম এবং ক্যালসিয়াম ইত্যাদি থাকে। সয়াবিনের মধ্যে প্রছুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টও উপস্থিত থাকে। সয়াবিন নানারকম ভাবে আমাদের শরীর চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।

শুকনো সয়াবিনে রয়েছে ২০%তৈল, ৪০% প্রোটিন, ৩৫% কার্বোহাইড্রেট [৪]। সয়াবিনের প্রোটিন মানের দিক থেকে প্রাণীজ প্রোটিনের সাথে তুলনাযোগ্য, যা সয়াবিনকে অন্যান্য উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে। প্রাণীজ প্রোটিনের পরিবর্তে বিকল্প প্রোটিন হিসাবে নিয়মিত সয়াবিন গ্রহণ করায় প্লাজমা কোলস্টেরলের পরিমাণ ২৩-২৫% কমে।

সাবান, গ্লিসারিন, রং, মুদ্রণের কালি প্রভৃতি দ্রব্য বাণিজ্যিক উৎপাদনে সয়াবিন অপরিহার্য উপাদান হিসাবে ব্যবহার হয়। কাঁচা সয়াবিন গাছ গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার হয়। ২৮.৬ গ্রাম প্রোটিনের উৎস মাত্র এক কাপ সয়াবিন যা প্রায় ১৫০ গ্রাম চিকেন ব্রেস্ট হতে প্রাপ্ত প্রোটিনের সমতুল্য অধিকন্তু এই উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রচুর পরিমাণ ফাইবার সমৃদ্ধ।

সয়াবিনে আছে আইসোফ্ল্যাভেন ও লেসিথিন নামক দুটি অত্যন্ত পুষ্টিকর উপাদান থাকে যা আমাদের হার্ট ভাল রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। আর আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার। ১০০ গ্রাম সয়াবিনে প্রায় ৩০ মিলিগ্রাম আইসোফ্ল্যাভেন নামক ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। এই দুটি উপাদান হার্টের কার্যক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্যে করে। এর মধ্যে আবার আইসোফ্ল্যাভেন অত্যন্ত জোরালো ফাইটো-ইস্ট্রোজেন।

ত্বক চুল-সহ সামগ্রিক ভাবে সৌন্দর্য বজায় রাখতেও এই উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেনের উৎস অত্যন্ত উপযোগী। ঋতুনিবৃত্তির পর মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের অভাবজনিত সমস্যার মোকাবিলা করতে নিয়ম করে সয়াবিন খাওয়া উচিত। আবার লেসিথিন সরাসরি হার্টের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।

আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের গবেষণায় প্রকাশ, সয়াবিনের দানা বা বিনস প্রত্যক্ষ ভাবে মোটে ৩ শতাংশ এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে পারে। কিন্তু পরোক্ষভাবে সয়াবিন এইচডিএল ও এলডিএলের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।

বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের হার্টের রক্তবাহী ধমনির মধ্যে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের (অর্থাৎ ধমনির মধ্যে কোলেস্টেরলের পলি জমে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া) মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। তাই পুষ্টি বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে লেসিথিনকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টের তকমা দিয়েছেন। সাপ্লিমেন্টের বদলে সরাসরি সয়াবিন থেকে এই নিউট্রিয়েন্টস শরীরে গেলে বেশি কার্যকর হয়। এই বিশেষ উপাদানটি ফ্যাট মেটাবলিজমেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।

করোনাভাইরাসকে দমিয়ে রাখতে রোজকার ডায়েটে থাকুক সয়াবিন, পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা এমনই জানাচ্ছেন। তবে প্রসেস করা নয় খেতে হবে সবুজ বিনস। যে কোনও খাবার প্রসেস করা হলে তার পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। তবে সয়াবিনের দানা রান্না করে খেলে একই পুষ্টিগুণ মিলবে।

(ঢাকাটাইমস/২২ অক্টোবর/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :