ক্যারাম বোর্ড ক্লাবের আড়ালে ক্যাসিনো, গ্রেপ্তার ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৪৩ | প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৩৯

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় একটি মিনি ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। ক্যাসিনোটি ক্যারাম খেলার আড়ালে পরিচালিত হতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার দিবাগত রাত সাতটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকায় ক্যাসিনো জুয়ার আসর থেকে মাদকসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এই মিনি ক্যাসিনো চলছিল গত দেড় বছর ধরে। প্রতিরাতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো। এ ক্যাসিনোতে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলতো। রাত যত গভীর হতো ক্যাসিনো ততো জমে উঠতো। এই ক্যাসিনোতে প্রতিরাতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো। আর এই জুয়ার আসরে খেলতো অধিকাংশ নিম্নআয়ের মানুষ। যাদের অনেকেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে খুইয়েছেন তাদের নিত্যদিনের আয়।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক আরও বলেন, র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমানের উপস্থিতিতে এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে র‌্যাব-৪ এর একটি দল আশুলিয়া থানাধীন কাইচাবাড়ি এলাকায় ওই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময়ে মিনি ক্যাসিনো জুয়ার আসর থেকে প্লেয়িং কার্ডসহ ১ টি ক্যাসিনো বোর্ড, ১০০ পিস ইয়াবা, ১২ ক্যান বিদেশি বিয়ার, ২২টি মোবাইল এবং নগদ ৩৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ সময় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিল্লাল, জুয়েল,‌‌ মইদুল ইসলাম, সবুজ মিয়া, শরিফ, লিটন, রবিউল মোল্ল্যা, আবু তালেব, দিয়াজুল ইসলাম, শিপন, আব্দুল আলিম, আজাদুল ইসলাম, সোহেল মোল্ল্যা, আসাদুল ইসলাম, এখলাছ, মঈন মিয়া, মাসুদ রানা, হাবিবুর রহমান, রুবেল মিয়া, ফজলে রাব্বি, রনি ভূঁইয়া।

মিনি ক্যাসিনো পরিচালনাকারিদের গ্রেপ্তার করা যায়নি জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, এই ক্যাসিনো ব্যবসা মালিকানায় রয়েছে প্লাবন হোসাইন ও ওমর ফারুক নামে দুজন। যদিও তাদেরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে এই মিনি ক্যাসিনো সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা জানতে পারব।

দেড় বছর ধরে চলা এই মিনি ক্যাসিনো কাদের ছত্রছায়ায় চলতো জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, এটা বলা খুব মুশকিল কারণ বাইরে প্রদর্শন করা হয় কেরাম বোর্ড। আর এর আড়ালে চলে এরকম জুয়ার আসর কিংবা মিনি ক্যাসিনো। আমরা যখনই গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তখনই অভিযান করে মিনি ক্যাসিনো থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।

‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি এই বোর্ড আমদানি করা হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে। তবে দেখে মনে হচ্ছে সম্প্রতি আমদানি করা হয়নি। আপনারা জানেন অনেক বড় বড় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। সমাজের খুব বড় বড় তথাকথিত গ্যাংস্টারকে আটক করা হয়েছে। তারা কে কিভাবে এই ক্যাসিনো বোর্ড আমদানি করেছে সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে যারাই এই বোর্ড আমদানি করুক না কেন, খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’-যোগ করেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/২৫অক্টোবর/এআর/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :