দুদকের মামলায় স্বাক্ষগ্রহণ শুরু

সম্পদ ডিআইজি মিজানের তবে অন্যের নামে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১৭ | প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০২

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সেসবের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পুলিশের বরখাস্তকৃত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানসহ এই মামলায় চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক জানায়, মিজানুর রহমান নিজের জন্য অন্যের নামে সম্পদ কিনতেন। পরে সেগুলো থেকে অর্থ ও সুবিধা ভোগ করতেন। এসব সম্পদ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থে কেনা।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এসব জানান ওই মামলার বাদী দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ।

মনজুর মোর্শেদ আদালতকে জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে। এ কারণে পরে তাকে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়।

২০১৯ সালে বছরের ১ আগস্ট দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণী থেকে জানা যায়, পুলিশের এই বরখাস্তকৃত উপ-মহাপরিদর্শক ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ২৬০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৫২ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেখান।

মনজুর মোর্শেদের আদালতে দেওয়া স্বাক্ষ্যগ্রহণ থেকে জানা যায়, এই পুলিশকর্তা মাহমুদুল হাসান নামে তার ভাগনেকে ২০০২ সালের ২৪ লাখ টাকা দিয়ে গুলশান-১ এর পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে একটি দোকান বরাদ্দ করিয়ে দেন। তবে দোকানের ভাড়া গ্রহণ করতেন তার স্ত্রী। এ ছাড়া ২০১৩ সালে তিনি ভাগনে মাহমুদুল হাসানের নামে কারওয়ান বাজার ওয়ান ব্যাংক শাখায় ৩০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করেন।

মিজানুর রহমান নিজের ভাই মাহমুদুর রহমানের নামে ২০১৬ সালের ২১ মার্চ ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৯ টাকা দিয়ে ঢাকার বেইলি রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। মাহবুবুর রহমানের ফ্ল্যাট কেনার বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্ল্যাটটিও এই বরখাস্তকুত পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শকের দখলে।

ডিআইজি মিজান ২০১১ নিজের স্ত্রীর নামেও ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যে একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট কেনেন বলে জানা যায়। তবে, এই বিপুল সম্পদের হিসাব তিনি দুদকে জমা দেননি বলে জানান দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ।

আদালত বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। গত ২০ অক্টোবর একই আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এদিন কারাগারে থাকা ডিআইজি মিজান ও তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়।

তবে এই মামলার অন্য দুই আসামি ডিআইজি মিজানুর রহমানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান পলাতক আছেন বলে জানায় দুদক।

ঢাকাটাইমস/২৭অক্টোবর/এসআর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :