বর্তমান প্রজন্মের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৫

সরকার ইতিহাস বিকৃতি করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি দেশের বর্তমান প্রজন্মের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরবে। একইসঙ্গে ইতিহাস বিকৃতির বিষয়টিও অবহিত করবে।

শনিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপির উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল এই সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এতে বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাস বিকৃত করছে এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ছোট করছে। এসব মোকাবিলা করতে তরুণ প্রজন্মের সামনে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এমন এক সময়ে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের পরিকল্পনা করছি, যখন দেশের স্বাধীনতাই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার মূল চেতনা, গণতন্ত্র একেবারেই নেই। সমগ্র দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে।’

দেশের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেই বিকৃত ইতিহাস সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে হবে।

বিএনপি প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল এমন দাবি করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল।

উদযাপনের একটি থিম ঠিক করতে হবে- এমন মন্তব্য করে আর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তিনটি বিষয়ের সেমিনার করা উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী-শিশু নির্যাতন ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা করতে হবে। দুর্নীতি, গণতন্ত্রের সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করতে হবে। তাহলে একটি পরিবর্তন আসবে। আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে ছোটো করার চেষ্টা করছে। এগুলো আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

আর নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোন দল আছে, যে দলের মহাসচিব সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা, যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শৈশবে মায়ের সঙ্গে কারাগারে ছিলেন।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কালুরঘাটকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করা দরকার। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে যেসব প্রকাশনা বের হবে, সেগুলোকে স্তরে স্তরে পৌঁছে দিতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘ছোটদের জিয়াউর রহমান বিষয়ে চটি বই বের করতে হবে। এটা বের করা ফরজ হয়ে গেছে।’

সুর্বণ জয়ন্তীর বিষয়টি উল্লেখ করে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। পৃথক-পৃথক অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রস্তাব করেন, মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্মৃতিফলকে সভা করা যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধণা দিতে হবে। ডকুমেন্টরি করতে হবে, যার যার অবদান আমরা তাকে দিতে চাই।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান উমর, শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

সভা সঞ্চালনা করেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, রবিবার সকাল ১১টায় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করবে বিএনপি।

(ঢাকাটাইমস/২১নভেম্বর/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :