‘সরকারকে টেনে নামাতে গিয়ে রশি ছিঁড়ে পড়ে গেছে বিএনপি’

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০০

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির কয়েকজন নেতা বক্তব্য দিয়েছেন- ‘এই সরকারকে টেনে নামিয়ে ফেলতে হবে।’ তবে, তাদের টেনে নামানোর হুমকির মধ্যে প্রায় একযুগ ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার মাসখানেক পর থেকেই তারা আমাদের টেনে নামানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সরকারকে টেনে নামাতে গিয়েই রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেছে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যখন বলেন- ‘স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির কথা, তখন হাসি পায়।’ যারা ইতিহাসকে বছরের পর বছর, দশকের পর দশক ধরে বিকৃতি করেছেন- তাদের মুখে এসব শোভা পায় না। আজকে যখন দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। তারা ইতিহাসের খলনায়ককে নায়ক বানিয়েছিলেন, স্কুলের দপ্তরিকে তারা হেড মাস্টার বানানোর চেষ্টা করেছিলেন।’

এ ধরনের হাস্যকর বক্তব্য ক্রমাগতভাবে না দিয়ে বরং নিজেদের দলকে গুছিয়ে, নিজেদের ঘরটাকে সংগঠিত করার পরামর্শ দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সৈয়দ মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মেজবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন- বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম আহবায়ক বাসেত মজুমদার, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, রতন কুমার রায়, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, আবু মো. হাশেম প্রমুখ। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন- ‘এই সরকার কখনো পদ্মা সেতু করতে পারবে না।’ তাদের বলব, পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখে আসুন। ঢাকা শহরে মেট্রোরেল ও চট্টগ্রামে কর্ণফুলি বঙ্গবন্ধু টানেল আগামী বছর চালু হবে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সাল নয়, তার অনেক আগেই ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হবে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো বদলে যাওয়ার অগ্রগতির গল্প যদি বিশ্ববাসীকে জানান দিতে হয়, শেখ হাসিনাকে একটু সময় দিতে হবে। তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বঙ্গবন্ধুর সফলতা সেখানেই যেই পাকিস্তান সংশয় প্রকাশ করত, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকবে কিনা। সেই পাকিস্তানের মানুষ শুধু নয়, তাদের প্রধানমন্ত্রীও আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে আক্ষেপ করেন। আমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়নের সব সূচকে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি কয়েক বছর আগে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর, পাকিস্তানের ৭০ বছর, বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের আমাদের তিনভাগের এক ভাগ। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার, পাকিস্তানের ১৮০০ ডলারের নিচে। শুধু পাকিস্তানকে নয়, সামাজিক ও মানব উন্নয়ন সূচকে আমরা ভারতকেও অতিক্রম করেছি অনেক আগে। এই করোনাকালে যেখানে পৃথিবীর মাত্র ২২টি দেশ পজিটিভ ইকোনোমিক জিডিপি গ্রোথ রাখতে সক্ষম হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে ঝড় উঠছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছে। কিন্তু একটি পক্ষ প্রশংসা করতে পারে না। বিএনপি আর তার দোসরেরা দেখেও দেখে না, শোনেও শোনে না, চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মুজিব শুধু বাঙালির নেতা নয়, তিনি বিশ্ব পেক্ষাপটে একজন বিশ্বনেতা ও নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি শুধু বাংলাদেশ সূচনা করেছেন তা নয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যখন আমরা অর্জন করি, তখন সমগ্র দেশ পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। সব সেতু-কালভার্ট বিধ্বস্ত করেছিল। সেই দেশকে বঙ্গবন্ধু মুজিব পুনর্গঠিত করেছিলেন। ৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।’

অনেকে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অনেক কারণ উপস্থাপন করেন। এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো ক্যানভাসটা আমাদের বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বাসন্তীকে জাল পরিয়ে কাগজের পাতায় ছবি ছাপিয়ে নানা ধরনের অপবাদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বাসন্তীকে যারা ছবি তুলে কাগজের পাতায় ছাপিয়েছিল, তারা তাকে কাপড় কিনে দেননি। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর সেই বাসন্তীকে দেখতে গিয়ে কাপড় কিনে দিয়েছেন এবং ঘর বানিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে রেকর্ড ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, তাকে হত্যা করার ৪০ বছর পর পর্যন্ত কেউ সে রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা সেই রেকর্ড অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বহু আগেই বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গল্প শুনত পৃথিবীর মানুষ। বঙ্গবন্ধুকে তারাই হত্যা করেছিল- যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি।’

(ঢাকাটাইমস/২৫নভেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :