বিজয় দিবসে দুই কূটনীতিককে স্বর্ণপদক দিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১০

আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে দুই কূটনীতিককে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও অন্যজন বিদেশি কূটনীতিক।

মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজ আয়োজনের প্রথমদিনে সূচনা বক্তব্যে এই তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

আগামী বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি সম্মেলন আয়োজন করতে চায় বলেও আগাম আভাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শান্তিতত্ত্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সবসময় বিশ্বাস করতেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি প্রয়োজন।’ ‘অসহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বে সংঘাত, যুদ্ধ ও সন্ত্রাস বাড়ছে। ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার জন্য রোহিঙ্গাদের পৈতৃকভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।’ বক্তব্যে যোগ করেন মোমেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মুহিত তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তার অবদান তুলে ধরেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারণাকে বঙ্গবন্ধু ধারবাহিকভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে বোধগম্য ও জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এভাবে তিনি জাতি গঠন ও জাতি রাষ্ট্রের ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।’

মুহিত বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছিল সংকল্প, সাহস, উদারতা এবং দরিদ্রদের প্রতি সমবেদনা। বঙ্গবন্ধু দৃঢভাবে বিশ্বাস করতেন, দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করার জন্য উর্বর ভূমি ও বিশাল জনগোষ্ঠীসহ সবকিছুই তার ছিল। দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনকল্যাণের নীতি অনুসরণ করেন তিনি।’

বঙ্গবন্ধুর শৈশব টেনে সাবেক এই অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধুর সাহসী ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছিল। বিখ্যাত নেতা সোহরাওয়ার্দীর সাথে তার আজীবন সম্পর্ক ছিল ছাত্র-শিক্ষকের।’

‘বঙ্গবন্ধু মাত্র তিন বছর সাত মাসে সংবিধান সংশোধনসহ ৫১৯টি আইন পাস বা সংশোধন করেছিলেন যাতে জনগণের সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।’ যোগ করেন মুহিত। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন পাস করার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন সাবেক এই আমলা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম ও মননশীলতার ওপর গবেষণা প্রয়োজন। তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে জনগণের বন্ধু এবং অত্যন্ত দূরদর্শী নেতা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। জনগণের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বঞ্চনা ও বৈষম্য দূরীকরণে তিনি তার সমগ্র জীবন ব্যয় করেছেন। জনগণের ক্ষমতায়নে সারাজীবন কাজ করে গেছেন।’

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ৬৮টি বৈদেশিক মিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী, শিক্ষকসহ প্রবাসীদের অংশগ্রহণে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বনেতৃবৃন্দের নিকট বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে চা্ন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বঙ্গবন্ধুর অসম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের কথা তুলে ধরেন। (ঢাকাটাইমস/০১ডিসেম্বর/এনআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :