ঢাকা উত্তর সিটির আঞ্চলিক কার্যালয়ের বেদখলে সড়ক

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১১:১৭

সাদা আর ইট রঙে সাজানো দোতলা ভবনের সামনের দেয়ালে বসানো সাইবোর্ডে লেখা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, আঞ্চলিক কার‌্যালয় (অঞ্চল-৫)। ভবনের একতলা ও দোতলার মাঝবরাবর থেকে টিনের ছাউনি নেমে এসেছে রাস্তায়। ছাউনির নিচে পাকা দেয়াল। ছাউনি ছাড়িয়ে সড়কে স্তূপ করা ড্রাম ও অন্যান্য জিনিসপত্র। এগুলো এই সিটি অফিসের।

এটি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনের চিত্র। তার পাশেই কদিন আগে উচ্ছেদের ক্ষত নিয়ে দাঁড়ানো বসেরকারি স্থাপনা। যারা কদিন পর পর রাজধানীর ফুটপাত আর সড়কে অবৈধ উচ্ছেদের দায়িত্ব পালন করেন, তারাই নিজেদের কার্যালয়ের সামনের সড়ক বেদখল করে রেখেছেন। তাদের দেখাদেখি ব্যবসায়ীরাও আলু-পেঁয়াজ ভরা বড় বড় বস্তা সারি সাজিয়েছেন কার্যালয়ের ফটকের সামনে।

সরেজমিনে করপোরেশনের কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, মূল ভবনের সামনে প্রায় ছয় ফুট জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে পাকা জেনারেটর রুম। কার্যালয়ের সামনের সড়কের প্রায় ২০ ফুট দখল করে রাখা হয়েছে ড্রাম, মোটরসাইকেল এবং গাড়ি। ভবনের সামনের অংশে রয়েছে বর্ধিত ছাউনি।

আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলছেন, তারা বাধ্য হয়ে সড়কে এসব জিনিস রাখছেন। তাদের আর বিকল্প নেই। কিন্তু ডিএনসিসির নগর ভবন বলছে, কারও দখলের বিষয়ই করপোরেশন সমর্থন করে না।

এ-সংক্রান্ত আইন কী বলছে? স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) ২০০৯ এর ৯২ ধারা অনুযায়ী এই কাজ অপরাধ এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণযোগ্য।

অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মাসুদ হোসেন। তাদের এ দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ হোসেন বলেন, ‘এটা আসলে বাধ্য হয়েই করা। শিফটিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে বা জায়গা পাওয়া গেলে তখন আর এটা থাকবে না। এখন যতটুকু আছে, এর তো আসলে কোনো বিকল্প নেই, কোনো উপায় নাই।’

কার্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা নেই উল্লেখ করে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘অফিসের জন্য কোনো জায়গায় নেই বিধায় এখানে করা হয়েছে। একটা জোন অফিসে তেলের ড্রাম আসে... বারান্দার মধ্যে আমাদের আলমারি, ফাইলপত্র, জিনিসপত্র, কাগজপত্র এগুলো রাখতে হয়। তার মানে অন্যান্য জিনিস তো রাখার কোনো জায়গা নেই সেখানে। আগে অফিসের সামনে একটা লম্বা ছাউনি ছিল। সেটির নিচে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হতো। মেয়র স্যারের নির্দেশে আমরা সেটি সরিয়ে নিয়েছি।’

গত সপ্তাহে এই ভবনের পাশের অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের অবৈধ মালামাল রয়ে গেছে। এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘পাশের অবৈধ স্থাপনা আমরা কদিন পর পরই উচ্ছেদ করি। এই তো গত সপ্তাহেই ভাঙলাম।’

অবৈধ বলে অন্যদের স্থাপনা উচ্ছেদ হলে সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ের সামনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়টা আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজার কাছে এ বিষয়ে চাইলে তিনি ঢাকা টাইমসকে জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। সিটি করপোরেশন উন্নয়ন কাজে সড়ক বা জায়গা গ্রহণ করতে পারে। তবে সড়ক দখল করে গাড়ি বা মালামাল রাখার বিষয়টি করপোরেশন সমর্থন করে না।

সেলিম রেজা বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা না। অবৈধ স্থাপনা যেখানেই হোক, এটা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে এলে তিনি তা ভেঙে দেয়ার কথা। সিটি করপোরেশন দখল করে না। সিটি করপোরেশন অবৈধ দখল ভেঙে দেয়। সিটি করপোরেশন যদি কোনো জায়গা নেয়, তাহলে সেটা হয় কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কারো জায়গা দখল করে ভোগ দখল করতে পারে না।’

রাস্তার মধ্যে ড্রাম রাখার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তা দখল করে ড্রাম রাখা, গাড়ি রাখা, ভ্যান রাখা- এগুলোর সুযোগ নেই। এগুলো সমর্থনযোগ্য না এবং আমরা সমর্থন করিও না।‘

(ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :