রওশন এরশাদ কতটা সুস্থ?

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ২১:২৪ | প্রকাশিত : ০৫ মে ২০২১, ১৭:১১

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির আলোচনার বাইরে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ বোধ করায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষককে। গতকাল মঙ্গলবারও সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর জানতে পার্টির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি গ্যাস্ট্রিক ও পানিস্বল্পতাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রওশন এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে জানিয়ে জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, ‘আমি গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তার শারীরিক অবস্থা ভালো। অসুস্থতার জন্য রোজা রাখতে পারছেন না। গ্যাস্ট্রিক ও পানিস্বল্পতাজনিত যে সমস্যা ছিল, সেটা কেটে গেছে।’

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও এখনই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না বিরোধীদলীয় নেতা। তাকে আরও কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

রওশন এরশাদের সুস্থতা কামনায় দোয়া চেয়েছেন এরশাদের সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক, যাকে ২০০০ সালে বিয়ে করেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ২০০৫ সালে এরশাদ-বিদিশার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের এই দাম্পত্যের ফসল একমাত্র ছেলে এরিক এখন আছেন বিদিশার সঙ্গে। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই এরশাদ মারা যাওয়ার পর তার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে ছেলেকে দেখাশোনার জন্য সেখানে উঠে যান বিদিশা।

রওশন এরশাদ আগে থেকেই থাকেন গুলশানের বাসায়। তার সুস্থতা কামনা করে নিজের ফেসবুক পেজে বিদিশা লেখেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

দেশে চলমান করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে রওশন এরশাদ সব সময় সতর্ক ও সচেতন বলে জানান পার্টির সূত্র। এ সময়ে বাইরে মোটেই বের হননি তিনি। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে টিকা নেন জাতীয় পার্টির এই প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

এরপর গত মার্চ-এপ্রিলে তেমন একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি রওশান এরশাদকে। গুঞ্জন উঠেছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো নেই ৭৮ বছর বয়সী রওশন এরশাদ।

১৯৪৩ সালের ১৯ জুলাই জন্ম নেওয়া রওশন এরশাদের সঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিয়ে হয় ১৯৫৬ সালে। তখন এরশাদ তরুণ সেনা কর্মকর্তা। ১৯৮৬ সাল পর‌্যন্ত নিঃসন্তান ছিলেন এই দম্পতি। ১৯৮৭ সালে সাদ এরশাদ তাদের ঘর আলো করে বলে ঘোষণা দেন তখনকার রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও ফার্স্ট লেডি রওশন।

রাজনীতিসহ নানা কারণে রওশনের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে এরশাদ ২০০০ সালে বিদিশাকে বিয়ে করেন। বিদিশার কোল জুড়ে আসে এরিক এরশাদ। তার বছর তিনেকের মধ্যে বিদিশার সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানেন এরশাদ।

দশম জাতীয় সংসদে এরশাদ থাকাকালেই বিরোধীদলীয় নেতা হন রওশন এরশাদ। একাদশ সংসদেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতা।

এরশাদ ও রওশনকে নিয়ে জাতীয় পার্টিতে দুই বলয় সব সময় কাজ করেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেটি প্রকাশ্যে আসে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়ও এই মেরুকরণ বহাল ছিল। তবে এরশাদের জীবিতকালে রওশন এরশাদ দলে দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে সব সময় গণ্য হয়েছেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর সেই অবস্থান আর নেই রওশন এরশাদের। দলীয় প্রধান এরশাদ তার ভাইকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উত্তরাধিকার দিয়ে যান। এ নিয়েও জল কম ঘোলা হয়নি। শেষমেশ দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। এতে করেও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বিরোধীদলীয় নেতা। এরপর থেকেই অনেকটা দলের রাজনীতির আড়ালে চলে যান রওশন এরশাদ।

(ঢাকাটাইমস/০৫মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :