নৌশ্রমিকদের নিরানন্দ ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ মে ২০২১, ১৭:১৭

মহামারি করোনায় থমকে গেছে অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মাস্টার আবুল কালামের মতো চার হাজার নৌশ্রমিকের জীবন। দুই বছর ধরে ঈদের সময়ে পরিবার পরিজনদের জন্য নতুন পোশাক তো দূরে থাক খাদ্যসামগ্রীও কিনে দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে বেশির ভাগ শ্রমিককে।

এবারের অবস্থা আরও করুণ। এপ্রিলের শুরু থেকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউনে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। তাই এবারের ঈদও একেবারে নিরানন্দ কেটেছে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী লঞ্চের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের।

লঞ্চ মালিকদের কেউ কেউ পুরো মাসের বেতন দিলেও অনেকে আবার অর্ধেক বেতন পরিশোধ করেছেন শ্রমিকদের। ফলে দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য বেতনের টাকায় পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটার সুযোগ হয়নি অনেকের।

অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মাস্টার আবুল কালাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যে টাকা বেতন পেয়েছি ঈদের আগে তা দিয়ে দেনা শোধ করেছি। ঈদে পরিবারের জন্য নতুন পোশাক কিনতে পারেনি আমার মতো অনেকে। সেমাই-চিনি কিনে কোনোমতে ঈদ করেছেন হাজার হাজার নৌশ্রমিক।’

যুগের পর যুগ ধরে রাজধানীর সদরঘাটে ঈদের সময় থাকে উপচেপড়া ভিড়। ফলে এই নৌবন্দর থেকে ৪১টি রুটের যাত্রীদের ঈদের সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু গত বছরের মতো এবারের ঈদেও সদরঘাটে ছিল পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ছিল না মানুষের কোনো আনাগোনা। ফলে ঘাটের আশপাশে নোঙর করে রাখা বিলাসবহুল লঞ্চেই ঈদ কেটেছে বেশিরভাগ শ্রমিকের। তাদের দাবি, মালিকদের পাশাপাশি সরকার তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে।

ইয়াদ লঞ্চের ড্রাইভার ছাগির আহম্মেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঈদের আগে ভাবছিলাম লঞ্চ ছেড়ে দেবে, কিন্তু কিছুই হলো না। লঞ্চেই ঈদ করতে হয়েছে সবাইকে। কিন্তু পরিবারে এবার অনেকেই কোনো টাকা পয়সা দিতে পারেনি। এখন শুনছি লকডাউন আরও বাড়বে। তাইলে ঈদের পরও লঞ্চ ছাড়ার সম্ভাবনা নাই।’

শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে হয়তো লঞ্চ ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা অন্যথায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার দাবি করেন ছাগির আহম্মেদ।

এদিকে নৌশ্রমিকদের পাশাপাশি সদরঘাটের কুলিরাও লকডাউনের কারণে বিপাকে পড়েছেন। যাত্রীদের মালপত্র টেনে জীবন চালানো কয়েকশ কুলি এখন পুরোপুরি বেকার।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় সুনসান নীরবতা। ঘাটে নোঙ্গর করা সারি সারি লঞ্চ। একমাসের বেশি সময় ধরে লঞ্চ বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। কবে নাগাদ এই অচল অবস্থা কাটবে সেই প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা।

(ঢাকাটাইমস/১৪মে/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :