সৈয়দ মাহবুবের অবৈধ সম্পদ তদন্তের কী হলো

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ মে ২০২১, ১১:৩২ | প্রকাশিত : ১৬ মে ২০২১, ১০:৪০

ঋণ কেলেঙ্কারি, ঘুষ গ্রহণসহ ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান তিন বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক এর মুখোমুখি হয়েছিলেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদান করেন। অনিয়ম করে ঋণের নামে এসব অর্থ ছাড় করার মাধ্যমে ব্যাংকটির শত শত কোটি টাকা পাচারে সহযোগিত করেন। সেই সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে নিজেও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ব্যাংকটির সাবেক এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে দুদকের উপ-পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ৩০ অক্টোবর ২০১৯ সালে নোটিশ পাঠিয়ে সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

ওই নোটিশে বলা হয়, ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষগ্রহণ, জালিয়াতি, বিরাট অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারি, ভুয়া এলসি খোলাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারসহ অপরাধের’ অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় দুদকের ডাকে ৬ নভেম্বর ২০১৯ সালে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন ব্যাংকটির সেসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। সেদিন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের অনুসন্ধানের বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও সংস্থাটির উপ পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাক টাইমসকে বলেন, আমি এই বিষয়টি এখন আর দেখছি না। এটি অনুসন্ধান করেন অন্য কোনো কর্মকর্তা। তাই তদন্ত বা অনুন্ধান সম্পর্কে আমি জানি না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির একজন উর্দ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১৯ সালেই সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা হয়। কমিশন তার বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করে। তবে মাঝখানে কোভিডের কারণে এই তদন্ত কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে।

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, এই ব্যাংক ব্যাবস্থাপকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আছে সেখানে অন্তত শখানেক ফাইল রয়েছে, যেগুলো প্রতিটি স্পটে গিয়ে যাচাই বাছাই করতে হবে। এছাড়া অনুসন্ধান করা সম্ভব না। কারণ প্রতিটি ঋণ কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে সেই অনসুন্ধান করতে এর বিকল্প নেই।’ তবে তদন্ত কাজ ধীরে হলেও থেমে নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।

রাজনীতি বিশ্লেষক, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার এই অনুসন্ধান ও তদন্তের নামে বিচারে এই দীর্ঘসূত্রতাকে ‘প্রহসন’ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, যারা সমাজে অবস্থা সম্পন্ন্ তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হয় না বরং আইন প্রয়োগ করা হয় তাদের সুরক্ষা করতে।’

সুসাশনের জন্য নাগরিক-সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবগুলোই নষ্ট করা হয়েছে। এ জন্যই বলা হয়, ‘বিচারে বানী নিভৃতে কাঁদে।’ এর জন্য ভবিষ্যতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।”

(ঢাকাটাইমস/১৬মে/এসআর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :