কে এই বিটকয়েন হামিম?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ১৬:১৩ | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০২১, ১৫:৫৪

প্রিন্স হামিম খাঁন। যিনি ক্রিপ্টো কারেন্সি-বিটকয়েন হামিম নামেও পরিচিত। ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে ইংরেজিতে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর কর্মজীবনের এক পর্যায়ে এসে বিটকয়েনসহ অন্যান্য ভার্চুয়াল কয়েন কেনা-বেচায় জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সও চালু করেন। এছাড়াও কম দামে পর্নো ভিডিও কিনে বেশি দামে বিক্রি করতেন তিনি। তার সঙ্গী ছিল আরও তিনজন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দেশে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া এলএসডি মাদক কেনার টাকা পরিশোধ করা হতো এসব ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে। এরপর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন গোয়েন্দারা।

শনিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডে অভিযান চালিয়ে হামিমসহ এই চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিরা হলেন- রাহুল সরকার, সঞ্জিব দে তিতাস ও সোহেল খান।

জানা গেছে, হামিম পড়াশোনা শেষের পর ইউটিউব দেখে কম্পিউটারে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। পাশাপাশি একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে নিজ এলাকা ছাড়াও রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর এলাকায় কম্পিউটারের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। পাশাপাশি তারা ক্রিপ্টো কারেন্সি-বিটকয়েন কীভাবে বেচা-কেনা করতে হয় সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দিতেন। হামিমের মাধ্যমে বিটকয়েন বিষয়ে প্রায় পঞ্চাশ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতিমাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করেছেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি গ্রুপ আছে তাদের। যেখানে সদস্য কয়েক হাজার। যারা গ্রুপটিতে বিটকয়েন কেনাবেচার তথ্য আদান প্রদান করতেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আল মঈন বলেন, হামিম আইটি রিলেটেড কাজে খুবই দক্ষ। বিট কয়েন ছাড়াও লিটকয়েন, ডগকয়েন, ইথারিয়াম, ব্রাস্ট, ন্যনো ইত্যাদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই কার্যক্রম চালিয়ে দেশের বিপুল অর্থ পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। হামিম প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিট কয়েন কিনে অবৈধ কার্যক্রম করে আসছিলেন। ভার্চুয়াল জগতে তার ১৫/১৬টি ওয়ালেট রয়েছে।

তিনি বলেন, বিট কয়েনের অনেক দেশে বৈধতা রয়েছে। মাইলেক্স ওয়ালেট এর সাইটে গিয়ে যে কেউ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। সেখানে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দিয়ে বিট কয়েন করে। সেই বিট কয়েন হামিম বা অন্যরা মাদক, রেপ্লিকা অস্ত্রসহ অন্যান্য জিনিস কেনাকাটা করতেন। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর মাদক আইস কেনাবেচাতে এই বিট কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে। যারা এসব ভার্চুয়াল ওয়ালেটে বিটকয়েন অ্যাকাউন্ট করছে- তারা নকল ডকুমেন্ট, নকল এনআইডি, নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/এসএস/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :