হুইপ সামশুলসহ ছয়জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ২২:২৯ | প্রকাশিত : ২১ জুন ২০২১, ২২:১৫

দুর্নীতির নানা অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির তদন্ত অনুসন্ধানকালে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সম্প্রতি এই আদেশ দেন। গত ১৩ জুন আদালত থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

আদালত আরও যে পাঁচজনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা হলেন- সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান সাজ্জাদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই এবং ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ।

দুদক ও আদালত সূত্র ঢাকা টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, গত ৭ জুন নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতে আবেদন করেন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের হাকিম কে. এম. ইমরুল কায়েশ ছয়জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন। পরে সেই নির্দেশনা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের কাছে পৌঁছানো হয়।

দুদকের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান দলের প্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এর আগে ক্যাসিনোকাণ্ডের তথ্য প্রকাশের পর দুদক সামশুল হক চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের ক্ষেত্রে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা আসে যে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞায় আদালতের অনুমতি নিতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারেই সামশুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনের ক্ষেত্রে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালতের আদেশের আবেদন করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।’

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জনপূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তার আবেদনে উল্লে­খ করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশনা এরই মধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। নির্দেশা অনুযায়ী নজরদারি করবে সংশ্লিষ্ট শাখা।

২০১৯ সালের ক্যাসিনো অভিযানের পর ওই বছরের ২৩ অক্টোবর মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ এনে এমপি সামশুল হক চৌধুরীসহ ২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি পাঠায় দুদক। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ওই সময় জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সামশুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দুই ডজন সাংসদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানায় দুদক।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে হুইপসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছিল দুদক। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দুদকের পাঠানো ওই চিঠির বিষয়ে সংস্থাটির সাবেক সচিব দিলওয়ার বখত তখন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

দেশে ক্যাসিনোকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার যখন ধরপাকড় করছিল, তখন এর সমালোচনা করেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। এর মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে ক্যাসিনো-বাণিজ্যের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান দেন। তিনি তখন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ১২টি ক্লাব আছে। ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগে খেলে। ওদের তো ধ্বংস করা যাবে না। ওদের খেলাধুলা বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসন কি খেলোয়াড়দের পাঁচ টাকা বেতন দেয়? ওরা কীভাবে খেলে, টাকা কোন জায়গা থেকে আসে, সরকার কি ওদের টাকা দেয়? দেয় না। এই ক্লাবগুলো তো পরিচালনা করতে হবে।’

২০১৯ সালে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সামশুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তবে এখনো দুদকের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডাকা হয়নি। এই বিষয়ে দুদকের পরিচালক (অনুসন্ধান) ও তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগোযোগ করা হলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তার (সামশুল) বিরুদ্ধে এখনো দুদকের তদন্ত ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।’ তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি এই কর্মকর্তা।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর দুই শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা করে তাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে দুদক। ইতিমধ্যে এই তালিকা থেকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২১জুন/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :