সম্পদ মূল্যের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি জেনেক্সের শেয়ার দর, তবুও বাড়ছে

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আইটি খাতের প্রতিষ্ঠান জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের শেয়ার দর বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সর্বশেষ শেয়ার লেনদেন হয়েছে সম্পদ মূল্যের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি দরে। গত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৫৪.৮০ টাকা বা ১০০ শতাংশ। কোম্পানিটির বেশি দরে শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বহুজাতিক টেলিকম টাওয়ার প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানির সঙ্গে সিকিউরিটি সার্ভিস দেওয়ার চুক্তির বিষয়টি উঠে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, তিন মাস আগে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিলো ৫৪ টাকা ৭০ পয়সায়। তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৪ টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে অবস্থান করছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সায়। এছাড়াও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৮ টাকা ০৭ পয়সা। আর সেখান থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫.৮৮ গুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা কোম্পানিটির ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক। কোম্পানিটির এমন শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারেীদের মাঝে শুনা যাচ্ছে কোম্পানিটির নতুন চুক্তির কথা।
এর আগে সর্বশেষ গত ৮ মে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এর সঙ্গে জেনেক্স ইনফোসিসের সফটওয়্যার সরবরাহের চুক্তি হয়েছে। এতেও জেনেক্স ইনফোসিসের আয় বাড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আর কোম্পানিটির এমন আয়ের খবর ডিএসইর ওয়েভ সাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে, পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার বাড়তে শুরু করে হু হু করে। শেয়ার দর অনুযায়ী বর্তমানে কোম্পানিটির পিই রেশিও অবস্থান করছে ২৫.৪৪ পয়েন্টে।
আশরাফুল নামে এক বিনিয়োগকারী জানান, এ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় বাড়বে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। কিন্তু তার আগেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ শেয়ার দর বাড়ায় ঝুঁকি রয়েছে।
এছাড়াও কোম্পানিটি গত অর্থ বছরের নয় মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দেখিয়েছে ৩ টাকা ০৬ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাড়িয়েছিলো ১৮ টাকা ০৭ পয়সা।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪২ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিলো ২ টাকা ৭১ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানিটির এনএভি ছিল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা।
২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১০৩ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬১ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৩২ লাখ ২৪ হাজারটি। এর মধ্যে ৩৪.৯৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
কোম্পানিটির মোট ঋণের পরিমাণ ৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্প মেয়াদী ঋণ রয়েছে ৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ রয়েছে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।(ঢাকাটাইমস/০৯ আগস্ট/এসআই/ আরএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































