চার কোম্পানির সার্বিক অবস্থা তদন্তে ডিএসইকে নির্দেশ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১০ | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০৯

ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই লাগামহীন বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস, মুন্নু ফেব্রিকসের শেয়ার দর। ব্যবসায় বড় পতনের পরেও মূল মার্কেটে ফেরার মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর গড় শেয়ার দর বেড়েছে ৮০০ শতাংশ করে। এই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ লক্ষ্যে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ওটিসি থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করার জন্য ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

রেজাউল করিম বলেন, ডিএসই ওটিসি থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে। এছাড়া প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল (পিএসআই) তথ্যের সত্যতা যাচাই করবে। একইসঙ্গে কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করবে। এর পেছনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির আরেকটি সূত্রে জানিয়েছে, ওটিসি থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি নিয়ে কমিশন চিন্তিত। এই দর বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক মনে করছে না কমিশন। তাই এর পেছনে কারসাজির সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করা হবে। যদি কাউকে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সে যেই হোক না কেনো।

বিএসইসির নির্দেশনায় গত ১৩ জুন ওটিসি থেকে ফেরা চারটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন মূল মার্কেটে শুরু হয়। যার পর থেকেই টানা দর বাড়তে থাকে কোম্পানিগুলো। এরমধ্যে কোম্পানিগুলোর ব্যবসার পতনের খবর প্রকাশও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারণ নেই বলে ডিএসই থেকে সচেতনতামূলক তথ্য প্রকাশের পরে টানা দর বাড়তে থাকে।

এই স্বল্প সময়ের মধ্যে গড়ে ৮০০ শতাংশ করে দর বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক মনে করছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরাও। তাদের মতে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তিন মাসের ব্যবধানে ৮০০ শতাংশ করে দর পাওয়া সম্ভব না। নিশ্চয় এর পেছনে কোনো একটি গোষ্ঠী কাজ করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, তিন মাসের ব্যবধানে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব না। এছাড়া ব্যবসায় পতন সত্ত্বেও শেয়ার দর টানা বৃদ্ধি পাওয়াও স্বাভাবিক লক্ষণ না।

লেনদেন শুরু হওয়ার পরে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়ায় চার কোম্পানি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় ডিএসই কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে তারা কারণ অনুসন্ধান করে। কিন্তু কোম্পানি চারটির মধ্যে একটিরও টানা দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারণ খুঁজে পায়নি ডিএসই।

এ নিয়ে গত ২১ জুন মুন্নু ফেব্রিকসের শেয়ার দর বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই বলে সচেতনতামূলক তথ্য প্রকাশ করে ডিএসই। এছাড়া ২২ জুন মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের দর বৃদ্ধির কারণ নেই বলে জানায়।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ওটিসি থেকে ফেরার দর (১৩ জুন) ১৭.৬ টাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর ছিল ২১৫.৯০ টাকা অর্থাৎ ১২৪৯ শতাংশ বেড়েছে। মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং শেয়ার দর ১৩ জুন ছিল ৫৫ টাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর বেড়ে ২২৩.৯০ টাকাবা ৩৪৮ শতাংশ। তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের দর ছিল ১৩.২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দাঁড়িয়েছে ১৮০.৪ টাকা বা ১৪০৩ শতাংশ এবং মুন্নু ফেব্রিকসের দর ১১ টাকা ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯.৯০ টাকাবা ১৯৯ শতাংশ। গড় দর বৃদ্ধি ৮০০ শতাংশ।

(ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/আরএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :